আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলমুখী মানুষের ভোগান্তি কমাতে লঞ্চের পাশাপাশি ফেরিতেও যাত্রী পারাপারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার প্রধান নৌবন্দর সদরঘাট কেন্দ্রিক যাতায়াতে ওয়ান ওয়ে ব্যবস্থার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।
ঈদ সামনে রেখে রবিবার বিআইডব্লিউটিএ ভবনের সম্মেলনকক্ষে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী প্রতিনিধি, বন্দর ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মতবিনিময় সভায় এ সিদ্বান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
মতবিনিময় সভায় বলা হয়—ঈদে ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার প্রধান দুই ঘাট মাওয়া-কাওড়াকান্দি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে চাপ বেড়ে যায়। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তি বেড়ে যায়। তাই এবার লঞ্চের পাশাপাশি এ দুই ঘাটে ফেরিতেও যাত্রী পারপার করা হবে।
রাজধানীর প্রধান নৌবন্দর সদরঘাটের বিষয়ে সভায় বলা হয়, নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলমুখী মানুষের চাপে এই এলাকা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এ অবস্থার সৃষ্টি হয় বিশেষত হকার ও উভয়মুখী যান চলাচলের কারণে। তাই এবারের ঈদের আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখ থেকে সদরঘাট পর্যন্ত কেবল যানবাহন যেতে পারবে। ঘাট থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখ পর্যন্ত কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।
ঈদের পর ঠিক এ ব্যবস্থা উল্টো হয়ে যাবে, অর্থাত্ তখন কেবল সদরঘাট থেকে যানবাহনে আসা যাবে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখ থেকে গাড়ি নিয়ে সেদিকে যাওয়া যাবে না।
সভায় জানানো হয়, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূল নয়। তাই দেশের যে চারটি উদ্ধারকারী জাহাজ রয়েছে, তার মধ্যে পটুয়াখালীতে থাকা জাহাজটিকে ঈদের আগে পাটুরিয়া ঘাটে নিয়ে আসা হবে।
রাজস্ব ফাঁকি দিতে মালিকরা তাদের নৌযানে ধারণ ক্ষমতা কম দেখান উল্লেখ করে নৌপরিবহনমন্ত্রী সভায় বলেন, আমি লঞ্চ মালিকদের প্রকৃত ধারণ ক্ষমতা দেখানোর আহ্বান জানাই। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও নিরাপদ হবে।
সভায় প্রত্যেক নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, লঞ্চ মালিক-শ্রমিকদের প্রতিনিধি, যাত্রী প্রতিনিধি, বন্দরগুলোর কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
