খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আপডেট : ২২ জুন ২০১৫, ০০:১৯

আজ ৪ রমজান। রমজান মাসকে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু সিয়াম পালনের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। রমজানের এক মাস সিয়াম পালনের নির্দেশ পাওয়ার পূর্বে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর নির্দেশে সাহাবায়ে কেরাম মুহররম মাসের ১০ তারিখের অর্থাত্ আশুরার সিয়াম পালন করতেন। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহ তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মদীনায় এসে দেখলেন যে, ইয়াহুদিগণ আশুরার দিবসে সিয়াম পালন করে। তিনি ইয়াহুদীদেরকে এই সিয়াম পালনের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বললোঃ এটা (আশুরা) একটি উত্তম দিন। এইদিনে আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে তাদের দুশমনের কবল হতে মুক্তিদান করেছিলেন, যে কারণে এইদিনে মুসা (আ.) সিয়াম পালন করতেন।

 
হযরত রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তখন বললেনঃ আমি তোমাদের অপেক্ষা মুসার অধিক নিকটবর্তী। অতঃপর তিনি এইদিনে সিয়াম পালন করেন এবং অন্যদেরকে সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন (বুখারী শরীফ)।
 
হযরত আয়শা সিদ্দীকা রাদিআল্লাহ তা’আলা আনহা হতে বর্ণিত আছে যে, রমজানের সিয়াম ফরয করা হলে আশুরার সিয়াম ছেড়ে দেয়া হয়, তবে কেউ ইচ্ছা করলে রাখতে পারে আবার ইচ্ছা করলে ছেড়ে দিতে পারে (বুখারী শরীফ)।
 
৬২৪ খৃস্টাব্দে রমজান মাসের সিয়াম পালন করবার বিধান নাযিল হয়। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেনঃ হে মু’মিনগণ, তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান দেওয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো (সূরা বাকারাঃ আয়াত ১৮৩)।
 
এখানে লক্ষণীয় যে, সিয়ামের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া। সকল প্রকারের পাপাচার হতে আত্মরক্ষাকে তাকওয়া বলে। একদিন হযরত উমর রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বিশিষ্ট সাহাবী হযরত উবাই ইবনে কা’ব রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহুর নিকট তাকওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বললেনঃ আপনি কি কখনও কন্টাকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করেছেন। হযরত উমর রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বললেন হ্যাঁ তখন হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) বললেনঃ সেই কন্টাকাকীর্ণ রাস্তা অতিক্রম করবার সময় আপনি কি করেছেন। হযরত উমর (রা.) বললেনঃ আমি সাবধানতা অবলম্বন করে সেই রাস্তা অতি দ্রুত অতিক্রম করেছিলাম। হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) বললেনঃ এটাই হচ্ছে তাকওয়া।
 
এই বিবরণ হতে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সকল প্রকারের পাপ ও গর্হিত কাজকর্ম হতে অতি সাবধানতার সাথে নিজেকে বাঁচানোর নামই তাকওয়া। যুগশ্রেষ্ঠ সূফী কুত্বুল আলম হযরত মওলানা শাহ সূফী তোয়াজউদ্দীন আহমদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেনঃ তাকওয়া ব্যতিরেকে অলীআল্লাহ্ হওয়া যায় না। সিয়াম সাবধানী, সংযমী ও মিতাচারী, মুত্তাকী বা পরহেজগার হবার প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
 

প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্ব্বের ভাষণে বলেছেনঃ কোন অনারবের উপর কোন আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোন আরবের উপর কোন অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোন কালোর উপর কোন সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোন সাদার উপর কোন কালোর শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সবাই আদম হতে এবং আদম মাটি হতে। শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হচ্ছে তাকওয়া।