দোষ স্বীকার না করলেও শাস্তি পাবে অপরাধী

আপডেট : ২২ জুন ২০১৫, ০১:৩৮

দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে অপরাধীকে সাজা দেয়ার বিধান রহিত করে মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধন করা হচ্ছে। এখন সংশোধিত আইনে দোষ স্বীকার না করলেও চাক্ষুষ প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচার-বিবেচনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধীকে শাস্তি দিতে পারবেন-এই বিধান রাখা হচ্ছে। এছাড়া পালিয়ে যাওয়া কোন অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করতে থানাকে আদেশ দিলে থানা সেটি আমলে নিতে বাধ্য থাকবে।

 
আজ সোমবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক সভায় মোবাইল কোর্ট আইন (সংশোধন) প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় সংশোধিত আইন অনুমোদিত হলে সংসদের চলতি অধিবেশনেই তা পাস করানোর জন্য উত্থাপন করা হতে পারে।
 
অপরাধের ছবি, অডিও-ভিডিও ক্লিপ সংশোধিত আইনে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের চাহিদামাফিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনে বাধ্যবাধকতা থাকছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘দ্য জুডিসিয়াল অফিসারস প্রটেকশন অ্যাক্ট ১৮৫০’-এর আওতা অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের সুরক্ষা দেয়া হয়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান গতকাল রবিবার ইত্তেফাককে বলেন, বিদ্যমান মোবাইল কোর্ট আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যেসব সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীসহ আইনটি পাস হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় কিছু সুবিধা তৈরি হবে-যা জনগণের উপকারসহ জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করবে।
 
বিদ্যমান আইনের ১২(১) ধারা সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হচ্ছে ‘এই আইনের অধীন মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট- পুলিশ বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা চাইলে পুলিশ বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কাজে আবশ্যিকভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েন নিশ্চিত করবে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান অনুরূপ চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিবে।’
 
আইনের ৬(১) সংশোধন করে বলা হয়েছে- ‘ধারা ৫ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা ধারা ১১-এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করবার সময় আইনের অধীন কোনো অপরাধ, যা কেবল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য, তার সম্মুখে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হয়ে থাকলে তিনি উক্ত অপরাধ তাত্ক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই আমলে গ্রহণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে, স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে, অথবা চাক্ষুষ ঘটনা, উপস্থিত সাক্ষীদের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচারে, দোষী সাব্যস্ত করে, এই আইনের নির্ধারিত দণ্ড আরোপ করতে পারবেন।
 
আইনের ৬ ধারায় নতুন উপধারা সংযোজন করে বলা হয়েছে- ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবার সময় যদি এইরূপ কোনো অপরাধ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হয় বা প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় কিন্তু অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে অভিযোগ এজাহার হিসেবে গণ্য করবার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
 
সংশোধিত আইনের ৭(৫) ধারায় বলা হয়েছে- ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক অভিযোগ অস্বীকার করে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য প্রদান করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চাক্ষুষ ঘটনা, উপস্থিত সাক্ষীদের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচারে তার বিবেচনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে যথোপযুক্ত দণ্ড আরোপ করে লিখিত আদেশ প্রদান করবেন।’
 

কোর্ট পরিচালনাকালে উপস্থিত যে কোনো সংস্থার বিশেষজ্ঞের মতামত নেয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে উপধারা-৬-এ। এতে বলা হয়েছে ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট পরিচালনাকালে উপস্থিত বিশেষজ্ঞের মতামত নিতে পারবেন।’