নির্ভয়ে খেলেছি বলেই জিতেছি: মাশরাফি

আপডেট : ২২ জুন ২০১৫, ১২:৩৫
 
‘ফিয়ারলেস ক্রিকেট’- কথাটা বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ দলের স্লোগানের মতো হয়ে গেছে। গতকাল সিরিজের এক ম্যাচ হাতে রেখেই ভারতকে সিরিজ হারানো নিশ্চিত করে এসে মাশরাফি বললেন, ‘এই নির্ভয় ক্রিকেটই বাংলাদেশকে নতুন এই চেহারায় নিয়ে এসেছে, বিশ্বকাপে আমরা যখন খেলতে যাই, তখন আমাদের এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া দরকার ছিলো। এ জন্য আমি কোচকে কৃতিত্ব দেব। আমরা একটা ব্যাপার ঠিক করেছি, পরিস্থিতি যাই হোক, আমরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবো এবং যার যার ভূমিকায় ভয়ডর ছাড়াই খেলবো। তার ফলাফল যে কী হতে পারে, সেটা চোখের সামনেই দেখছেন।’
 
সেই নির্ভয় ক্রিকেটের ফলাফল হিসেবে ভারতকে আরেক ম্যাচে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর মাশরাফি মানছেন যে এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা অর্জন। অকপটে বললেন, ‘আমাদের ক্রিকেটে অনেক গৌরবময় অর্জন আছে, কোনোটাকে খাটো করা যাবে না। তবে এটা ঠিক যে এই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়টাকে ইতিহাসের সেরাগুলোর একটা বলে মানতে হবে। ভারত সম্ভবত র্যাংকিংয়ের দুই নম্বর দল; তাই না? এরকম একটা দলের বিপক্ষে এতো দাপট দেখিয়ে জয় পাওয়াটা সহজ ব্যাপার নয়।’
 
তবে এরপরও মাশরাফি বিশ্বাস করেন আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে, সুযোগ আছে আরও উন্নতি করার। তৃতীয় ম্যাচে এবং বাকি আসছে সিরিজগুলোতে সেই উন্নতিটা দেখতে চান দলের কাছ থেকে। বললেন, ‘আমরা আমাদের সেরাটা এখনও খেলতে পারিনি। পারফেক্ট ক্রিকেট তো হয় না। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে পারফেক্টের খুব কাছাকাছি খেলেছিলাম। তা এখনও খেলতে পারিনি। অনেক উন্নতি করতে হবে। আমরা সেটা করতে চাই।’
 
মাশরাফি মানছেন যে এখন আরও উন্নতি করা ও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটা তাদের জন্য দারুণ এক চ্যালেঞ্জ। আর খুশী মনেই সেই চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন, ‘আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসেরই সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারা। ব্যক্তিগত ও দলীয় পারফরম্যান্সে সেটার অভাব ছিলো। এখন কিছুটা হলেও গতিটা পেয়েছি আমরা। সেটা ধরে রাখাটা মূল চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জটাকে আমি মনে করছি ভালো চ্যালেঞ্জ।’
 
সবশেষে মাশরাফি বার বার এই অর্জনের জন্য কৃতিত্ব দিলেন তরুণ পেসার পাশে বসে থাকা মুস্তাফিজুরকে। তবে এটাও মনে করিয়ে দিলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত হতে চাইলে মুস্তাফিজকে অনেক কষ্ট করতে হবে, ‘ও অনেকদূর যেতে পারে; সেই ক্ষমতা আছে ওর। তবে ওকে পরিশ্রম করতে হবে। অনেক উন্নতি করতে হবে। সেটা করতে পারলে শুধু ও নয়, দলের আমি ছাড়া তিন পেসার আগামী দশ বছর দেশকে সার্ভিস দিয়ে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’