আফগান পার্লামেন্টে হামলা: ৭ তালেবান নিহত

আপডেট : ২২ জুন ২০১৫, ২১:৪০
 
সংসদ অধিবেশন চলাকালে আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট ভবনে সোমবার সকালে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে তালেবান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণলায়ের মুখপাত্র নাজিব দানিশ এএফপিকে বলেছেন, সাতজন তালেবান জঙ্গি হামলায় অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে একজন পার্লামেন্ট ভবনের সামনে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটায়। অন্য ছয়জন কাছের একটি ভবনে প্রবেশ করে গুলি চালাতে থাকে। তাদের নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছে।
 
 
হামলার দায় স্বীকার করেছে তালেবান। অপরদিকে হেলমান্দ প্রদেশে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিষ্ফোরণে নারী ও শিশুসহ ১৯ জন নিহত হয়েছে।
 
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সংসদের স্পিকার, নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকাকালীন পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে একাধিক বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিকট আওয়াজে বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে প্রচুর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। কেঁপে ওঠে পার্লামেন্ট ভবনটি। ভবনের জানালার অনেক কাঁচ ভেঙ্গে গেছে।
 
দেশটির এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে প্রথমে একটি গাড়ি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় হামলাকারীরা। এরপর পার্লামেন্ট ভবনের কাছে অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে গুলি চালায় বন্দুকধারীরা। এসময় সংসদ সদস্যদের সরিয়ে নেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণে ওই এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে এবং সংসদ সদস্যরা দৌড়ে সরে যাচ্ছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়েছে, তালেবান জঙ্গিরা এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
 
কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও তালেবান জঙ্গিরা কীভাবে পার্লামেন্টে ঢুকে পড়লো সেই সম্পর্কে কিছু বলতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
 
এদিকে পৃথক আরেকটি ঘটনায় আফগানিস্তানে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ এক পরিবারের ১২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হেলমান্দের মারজাহ জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। তবে রবিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ ঘটনায় নয় শিশু ও আট নারীসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
 
নিহতদের এক আত্মীয় জানান, সরকারের আসন্ন তালেবান-বিরোধী অভিযানের খবর পেয়ে পরিবারটি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলাটির দায় স্বীকার করেনি। তবে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে তালেবানই এ ধরনের বোমা পেতে রাখে বলে তাদেরই সন্দেহ করা হচ্ছে।
 
গতবছর যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর অধিকাংশ সেনা দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দেশটিতে সহিংসতার ঘটনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স