কি যাদু মুস্তাফিজের

আপডেট : ২২ জুন ২০১৫, ২৩:৩৬

স্যার আর্থার কোনান ডয়েল একবার বলেছিলেন– সবকিছুই মানুষের চোখের সামনে থাকে; কিন্তু মানুষের চোখ যা যা দেখতে ব্যর্থ হয়, তাই রহস্য! এই কথাটা আর কোনো ক্ষেত্রে খাটুক আর নাই খাটুক, বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান সম্পর্কে ষোলো আনা সত্যি। মুস্তাফিজ চোখের সামনেই আছেন, চোখের সামনেই বল করছেন। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা কিছুতেই যেন দেখতে পাচ্ছেন না মুস্তাফিজুরের বোলিং কৌশল। আর তাতেই তিনি হয়ে উঠেছেন এই যুগের নতুন রহস্য-বোলার।

 
দ্বিতীয় ম্যাচ হারার পর ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি বলছিলেন, মুস্তাফিজ কার্যতই আনপ্লেয়েবল হয়ে উঠেছেন; তাকে খেলাই যাচ্ছে না।
 
কেন? কিভাবে মুস্তাফিজুর ‘আনপ্লেয়েবল’ হচ্ছেন? এর সরল-সোজা উত্তর হলো, মুস্তাফিজুরের স্লোয়ার ও কাটার। কাটার বলটা হলো কার্যত স্পিন বল। পেসার তার সাধারণ বোলিং অ্যাকশনেই দৌড়ে এসে শেষ সময়ে আঙুল দিয়ে বল টার্ন করালে সেটাকে বলে কাটার। কিন্তু সমস্যা হলো, এই স্লোয়ার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন সর্বাধিক ব্যবহূত বৈচিত্র্যে পরিণত হয়েছে। তাহলে স্লোয়ার কেন রহস্য হবে! আবার কাটারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোটেও বিরল কিছু নয়। হ্যাডলি, ইমরানের মতো কিংবদন্তিরা তো বটেই, কিছুদিন আগের প্রসাদ বা এখনকার জনসনও কাটার করে থাকেন। তাহলে মুস্তাফিজুর আলাদা কী করছেন?
 
এই প্রশ্ন নিয়ে আমরা দ্বারস্থ হয়েছিলাম দেশের প্রথম টেস্ট কোচ, প্রবীণ ফাস্ট বোলিং কোচ এবং হাই পারফরম্যান্স ইউনিটে মুস্তাফিজুর রহমানদের দায়িত্বে থাকা সারোয়ার ইমরানের। তিনি সরল করে বোঝালেন বাকীদের সঙ্গে মুস্তাফিজুরের পার্থক্যটা। ইমরানের মতে মুস্তাফিজুরের প্রকৃতিপ্রদত্ত বোলিং হলো আউট সুইং। এটার সঙ্গে ওর স্টকে দুটো ভেরিয়েশন আছে। একটা স্লোয়ার অফ কাটার, একটা ফাস্ট অফ কাটার। এখন ঘটনা হলো, ওর স্লোয়ার ও ফাস্ট কাটারের মধ্যে ওর হাতের অ্যাকশনের যে পার্থক্য, এটা ব্যাটসম্যানদের পক্ষে ধরা প্রায় অসম্ভব। ফলে ব্যাটসম্যানরা বুঝতেই পারছে না যে, ওর কোন কাটারটা স্লোয়ার, কোন কাটারটা ফাস্টার।
 

এই দুটো কাটারের মধ্যে প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক গতিশীল কাটার ও সাধারণ স্লোয়ার ব্যবহার করেছেন মুস্তাফিজ। স্টকে আরও থেকে গিয়েছিলো স্লো কাটার। দ্বিতীয় ম্যাচে আরও দুর্বোধ্য হয়ে উঠলেন এই নতুন বৈচিত্র্যটা ব্যবহার করে। ম্যাচশেষে এটা নিজেই বলছিলেন মুস্তাফিজ, ‘এই ম্যাচের আগে অনুশীলনে হিথ স্ট্রিক (বোলিং কোচ) বলেছিলেন, প্রথম ম্যাচে যেভাবে বোলিং করেছো, ওরা সেটা ধরে ফেলতে পারে। তখন আমি বলেছিলাম যে সমস্যা নেই, আমি আরেকটা স্লোয়ার পারি। ওটাই করব। সেটা করেই সফল হয়েছি।’