প্রমাণ পেলেই শাস্তি দিতে পারবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

আপডেট : ২২ জুন ২০১৫, ২৩:৪৬

দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে অপরাধীকে সাজা দেয়ার বিধান রহিত করে মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে দোষ স্বীকার না করলেও চাক্ষুষ প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচার-বিবেচনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার বিধান রাখা হচ্ছে। এছাড়া অপরাধী পালিয়ে গেলেও অপরাধ আমলে নেয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে এই আইনে। পালিয়ে যাওয়া কোন অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করতে থানাকে আদেশ দিলে সেটি আমলে নিতে বাধ্য থাকবে। এ ধরনের সব ক্ষমতা ব্যবহার করে কিছুটা হলেও বিচারিক কর্তৃত্ব ফিরে পাবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। বিচার বিভাগ আলাদা হবার পর থেকে মাঠে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে গিয়ে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন তারা। বিশেষ করে অপরাধ আমলে নিতে না পারা এবং দোষ স্বীকার না করলে শাস্তি দিতে না পারায় মোবাইল কোর্ট কার্যত অনেকটাই বিফলে যাচ্ছিল। তারা এও বলছেন, এ আইন সংশোধনের ফলে মাযদার হোসেন মামলার রায়ের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।   

 
গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক সভায় মোবাইল কোর্ট আইন (সংশোধন)-২০১৫ চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেইন ভূইঞা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।  এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। সংসদ ভবনে এ বৈঠক হয়। এতে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয়ে ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়।
 
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, সংশোধনে মোবাইল কোর্টের আওতায় দোষ স্বীকার না করলেও সাক্ষীদের সাক্ষ্য নিয়ে এবং পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনা করে শাস্তি দেয়া যাবে। দ্বিতীয় সংযোজন হচ্ছে-মোবাইল কোর্টের আওতায় বিচারে তথ্য ও ?যোগাযোগ প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি। মোবাইল কোর্টের আওতায় ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর ও বায়োমেট্রিক ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট পরিচালনায় বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে পারবেন বলে সংশোধনের খসড়ায় বলা আছে।
 
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মূলত ভেজালবিরোধী অভিযান, ইভটিজিং বন্ধ, সুষ্ঠুভাবে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ, জনগণের নিরাপত্তা বিধান এবং দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে এ আইন করা হয়। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের আওতায় সাড়ে পাঁচ লাখ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় ২০১৪ সালের ফেরুয়ারি মাসে মন্ত্রিসভার নির্দেশনা মেনে আইনকে আরো কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা হালনাগাদ করে। এখন মোবাইল কোর্টের তফসিলে ৯৩টি আইনে শাস্তি দেয়া যায়।
 
ম্যাজিস্ট্রেটের চাহিদামাফিক আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনে বাধ্যবাধকতা থাকছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘দ্য জুডিসিয়াল অফিসারস প্রটেকশন অ্যাক্ট ১৮৫০’-এর আওতা অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের সুরক্ষা দেয়া হয়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান গতকাল রবিবার  ইত্তেফাককে বলেন, বিদ্যমান মোবাইল কোর্ট আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যেসব সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীসহ আইনটি পাস হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সুবিধা হবে।
 
আইনের ৬ ধারায় নতুন উপধারা সংযোজন করে বলা হয়েছে-‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবার সময় যদি এইরূপ কোনো অপরাধ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হয় বা প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় কিন্তু অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে অভিযোগ এজাহার হিসেবে গণ্য করবার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
 
সংশোধিত আইনের ৭ (৫) ধারায় বলা হয়েছে, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক অভিযোগ অস্বীকার করে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য প্রদান করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চাক্ষুষ ঘটনা, উপস্থিত সাক্ষীদের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচারে তার বিবেচনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে যথোপযুক্ত দণ্ড আরোপ করে লিখিত আদেশ প্রদান করবেন।’
 
কোর্ট পরিচালনাকালে উপস্থিত যেকোনো সংস্থার বিশেষজ্ঞের মতামত নেয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে উপধারা-৬-এ। এতে বলা হয়েছে ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট পরিচালনাকালে উপস্থিত বিশেষজ্ঞের মতামত নিতে পারবেন।’
 
ক্রিকেট দলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
 
এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভারতের সঙ্গে সিরিজ জয়ে মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম, ম্যানেজার, কোচসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্যে বিশেষ করে নতুন ক্রিকেটারদের অসাধারণ দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছে, এটি সমগ্র জাতির জন্য একটি গর্বের বিষয়। এছাড়া মন্ত্রিসভা ‘বাংলাদেশ শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ আইন-২০১৫’র খসড়া ও ‘পাট আইন-২০১৫’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
 
ডব্লিউএসআইএস পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর
 

জাতীয় তথ্য বাতায়নের একসেস টু ইনফরমেশন এ্যান্ড নলেজ ক্যাটাগরিতে জয় করা ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) পুরস্কার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, গত ২৬ মে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের পরিচালক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন।