হোয়াইট ওয়াশই লক্ষ্য

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৫, ১৪:৫৩

ভারতীয় পত্র-পত্রিকা জানাচ্ছে, সে দেশের ড্রেসিংরুমে নাকি খুব মতানৈক্য চলছে। অবশ্য ভারতের মুখপাত্র হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা দলটির অন্যতম সেরা বক্তা রবিচন্দন অশ্বিন এই কথা একেবারেই উড়িয়ে দিলেন। অশ্বিন অনেক কিছুই উড়িয়ে দিতে চাইলেন—তারা তেঁতে গেছেন, তারা বিপাকে আছেন। তবে একটা কথা পরিষ্কার করে বললেন—এখন ‘হোয়াইট ওয়াশ’ এড়ানোটাই তাদের আসল ভাবনা!

 
হ্যাঁ, এই ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হার এড়াতেই আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডে খেলতে নামবে ভারত। বিপরীতে বাংলাদেশ নামবে অনন্য অভিজ্ঞতা সম্বল করে। আজ তাদের পরিকল্পনা, ভারতের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা ওয়ানডে দলকে আরও একবার বলে-কয়ে হারিয়ে আরও একটা পালক মুকুটে যোগ করা।
 
এই পরস্পর বিরোধী চাওয়া নিয়ে আজ দুপুর তিনটে থেকে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের ও ভারতের চলতি সফরের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে দু’দল।
 
খেলায় দু’দলেরই আজ ‘কমন’ শত্রু হয়ে উঠতে পারে বৃষ্টি। আগের দু’ম্যাচেই বেশ খানিকটা করে বৃষ্টি বাগড়া দিলেও খেলা পণ্ড হয়নি। গতকাল সারাদিনই মিরপুরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাষ বলছে, আজও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ডে ব্যবহার হতে পারে এই সিরিজে।
 
বৃষ্টি বাদ দিলে এই ম্যাচে বাংলাদেশের ভাবনার কিছুই নেই। ইতিমধ্যে তাদের যা অর্জনের তা হয়ে গেছে। ভারতকে সিরিজ হারানো হয়েছে, র্যাংকিংয়ে বড় উন্নতি হয়েছে এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলা নিশ্চিত হয়েছে। তারপরও বাংলাদেশ দল আজ পুরো শক্তি নিয়ে জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা করতেই মাঠে নামবে বলে দলের প্রতিনিধি নাসির হোসেন জানালেন। 
 
তাদের ভাবনাটা এরকম, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি। আমরা বলেছি, দুই ম্যাচ হেরে গেলে তৃতীয় ম্যাচে আমরা যেমন মরিয়া থাকতাম, এ ক্ষেত্রেও তাই-ই থাকবো। জয় ছাড়া কিছু ভাবছি না।’
 
অন্য দিকে ভারতের কাছে এটা মান বাঁচানোর, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। ভারতের প্রতিনিধি অশ্বিন বলে গেলেন, ‘একটা জয়ই হতে পারে আমাদের বড় অর্জন। এটা মৌসুমে আমাদের শেষ ম্যাচ। বাংলাদেশ এখন বড় দল। তাদের বিপক্ষে একটা জয় নিয়ে মৌসুম শেষ করতে চাই আমরা।’
 
এই ভালো শেষ করার চেষ্টায় ভারতীয় একাদশে কিছু পরিবর্তন থাকবে। যতদূর ইঙ্গিত মিলছে, বাংলাদেশ দলেও পরিবর্তন থাকতে পারে। গতকাল হঠাত্ করেই স্কোয়াডে আনা হয়েছে লেগস্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনকে। ধারণা করা হচ্ছে, একজন পেসার কমিয়ে এই লেগস্পিনারকে খেলানো হবে শেষ ম্যাচে।
 
এদিকে, আজকের ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে পেসার মুস্তাফিজের রেকর্ড গড়ার ম্যাচ। তিন ম্যাচের সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হয়ে যেতে পারেন মুস্তাফিজুর রহমান।
 
তিন ম্যাচের সিরিজে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী অস্ট্রেলিয়ার রায়ান হ্যারিস। ২০১০ সালে তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে নিয়েছিলেন ১৩ উইকেট। আর ভ্যাসবার্ট ড্রাকেস ২০০২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিয়েছিলেন ১২ উইকেট। মুস্তাফিজ এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচেই ১১ উইকেট নিয়ে ফেলেছেন। আর ২ উইকেট নিলে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করবেন, ৩ উইকেট নিলে সবাইকে ছাপিয়ে যাবেন।
 
রেকর্ড হাতছানি দিচ্ছে সাকিব আল হাসানকেও
 
আর মাত্র ৩ উইকেট হলেই দেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ঢুকে পড়বেন ২০০ উইকেট শিকারীর তালিকায়। আব্দুর রাজ্জাকের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে এই কীর্তি করবেন। তবে সাকিবের কীর্তিটা এই দুইশ’ উইকেট দিয়ে ঠিক বোঝা যাবে না। কারণ, এই দুইশ’ উইকেট শিকার করলে ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের অতি সংক্ষিপ্ত এক অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও চলে যাবেন সাকিব।
 

বিশ্বের ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে চার হাজারের বেশি রান এবং দুইশ’ উইকেটের মালিক হবেন তিনি। এই মুহূর্তে ওয়ানডেতে সাকিবের রান ৪৩১৪ এবং উইকেট সংখ্যা ১৯৭।