আজ ৬ রমজান। ৬ রমজানের সাথে জড়িয়ে রয়েছে হযরত মুসা আলায়হিস্সালামের জীবন ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। জানা যায়, কয়েক হাজার বত্সর পূর্বে এই দিবসে তুর পাহাড়ে হযরত মুসা আলায়হিস্সালামের নিকট তওরাত নাযিল হয়েছিল। এটি নাযিল হয় পাথরের ফলকে উত্কীর্ণ করে। এতে দশটি আদেশ বা অনুশাসন বিধৃত ছিল। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, মূর্তি বানাবে না, মাতা-পিতার বাধ্যগত হবে, হত্যা করবে না, ভ্যাবিচার করবে না, চুরি করো না, প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কোনরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দিবে না, প্রতিবেশীর পরিবারের প্রতি অন্যায় লালসা করবে না ইত্যাদি।
হযরত মুসা আলায়হিস্সালাম আল্লাহ্র সাথে সরাসরি বাক্যালাপ করেছিলেন যে কারণে তিনি কলীমুল্লাহ হিসাবেও বিশেষভাবে পরিচিত। কুরআন মজীদে এর উল্লেখ রয়েছে, ইরশাদ হয়েছেঃ ওয়া কাল্লামাল্লাহু মুসা তাকলীমা- আর মুসার সাথে আল্লাহ্ সাক্ষাত্ বাক্যালাপ করেছিলেন (সূরা নিসাঃ আয়াত ১৬৪)।
হযরত মুসা আলায়হিস্সালাম তুর পাহাড়ে প্রথমে ৩০ দিন নির্ধারণ করে সিয়ামসহ ইতিকাফ পালন করেন, পরে আরও ১০ দিনসহ মোট চল্লিশ দিন সিয়ামসহ ইতিকাফ পালন করেন। এই চল্লিশ দিন পূর্ণ হলে তিনি তওরাত লাভ করেন। এতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি তুর পাহাড়ে রজব মাসের শেষের দিকে গমন করে ৬ রমজান তওরাত প্রাপ্তি পর্যন্ত তুর পাহাড়ে অবস্থান করেছিলেন। তিনি এই সময় আল্লাহর দর্শন লাভ করবার জন্য আবেদন জানান। এই সম্পর্কে কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছেঃ মুসা যখন আমার (আল্লাহ্র) নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলো এবং তার রব্ তাঁর সাথে কথা বললেন তখন সে (মুসা) বললোঃ হে আমার রব্, আমাকে দেখা দাও, আমি তোমাকে দেখব। তিনি (আল্লাহ্) বললেনঃ লান তারানী- তুমি আমাকে কখনই দেখতে পাবে না। তুমি বরং ঐ পাহাড়ের দিকে তাকাও, যদি তা স্বস্থানে স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখতে পাবে। যখন তাঁর রব্ পাহাড়ে তাজাল্লী বিকশিত করলেন তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করল আর মুসা বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলো। যখন সে (মুসা) হুঁশ ফিরে পেল তখন বললোঃ পবিত্র ও মহিমাময় তুমি, আমি তোমার নিকট তওবা করছি এবং মু’মিনদের মধ্যে আমিই প্রথম।
তিনি (আল্লাহ্) বললেনঃ হে মুসা, আমি তোমাকে আমার রিসালত ও বাক্যালাপ দ্বারা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি, সুতরাং আমি তোমাকে যা কিছু দিলাম তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞ হও। আমি তাঁর জন্য ফলকে সর্ববিষয়ে উপদেশ ও সকল বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি। (সূরা আরাফঃ আয়াত ১৪৩-১৪৫)।
হযরত মুসা আলায়হিস্সালাম তাঁর কওম বনী ইসরাঈল তথা ইসরাঈল সন্তানদের ফিরাউনের জুলুম হতে উদ্ধার করে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়েছিলেন। আল্লাহ্ তাকে যে দশটি মু’জিজা দান করেছিলেন তাঁর মধ্যে তার লাঠি উল্লেখযোগ্য। এই লাঠি মাটিতে রাখলে প্রয়োজনবোধে সাপ হয়ে যেতো। ফিরাউনের যাদুকরদের যাদুর সাপ এই লাঠি সাপ হয়ে খেয়ে ফেলেছিল। কুরআন মজীদে যাদুকরদের যাদু দ্বারা সাপ তৈরির বিবরণ রয়েছে। সেই যাদু ধ্বংস করার জন্য আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু হযরত মুসা আলায়হিসসালামকে নির্দেশ দেন। ইরশাদ হয়েছেঃ মুসার প্রতি আমি প্রত্যাদেশ করলাম ‘তুমিও তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর’ সহসা তা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলো গ্রাস করতে লাগলো (সূরা আরাফঃ আয়াত ১১৭)।
এই লাঠি অন্ধকারে আলো দিতো, অনাবৃষ্টির সময় পানি বর্ষণ করতো, ফলবান বৃক্ষে পরিণত হতো, দুগ্ধ, মধু ও সুগন্ধী যোগান দিতো, পাথর ও পাহাড় ভাঙতো, নদী ও সমুদ্রের দিক নির্ণয় করতো।
