মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী পুলিশের (বিজিপি) হাতে অপহৃত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক আব্দুর রাজ্জাকে দুই/একদিনের মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। বুধবার সাড়ে ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
বিজিবি মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ বলেছেন, ‘আগামী দুই/একদিনের মধ্যে ছয় সদস্যের একটি টিম মিয়ানমার যাবে এবং তাকে ফিরিয়ে আনবে। এ ব্যাপারে আমরা আশ্বাস পেয়েছি।
IMG0
নায়েক রাজ্জাকে নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছবিতে যতটুকু দেখেছি। তাতে তার নাকে-মুখে আঘাতের চিহ্ন আছে। তবে তাকে না পাওয়া পর্যন্ত, তার মুখ থেকে না শোনা পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
তিনি জানান, রাজ্জাককে নিয়ে যাওয়ার সময় বিজিপি ও বিজিবির মধ্যে বৈঠা নিয়েও মারামারি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গাদের নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই গত ১৭ জুন কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীতে গোলাগুলির পর বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যায় বিজিপি। তখন বিপ্লব নামে একজন বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধও হন। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বিজিবি সদস্যকে দ্রুত ফেরত দিতে বলে। এরপর বিজিবির পক্ষ থেকে কয়েক দফা পতাকা বৈঠকের উদ্যোগের কথা বলা হলেও মিয়ানমারের বিজিপি রাজি হয়নি। উল্টো বিজিপির ফেইসবুক পেইজে নায়েক রাজ্জাকের দুটো ছবি প্রকাশ করা হয়, যাতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাতকড়া পড়া দেখা যায়। এ অবস্থায় রাজ্জাকের স্ত্রী আসমা বেগম গত রবিবার সকালে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। বিষয়টি সংবাদের শিরোনাম হলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে মিয়ানমারের সমালোচনা করেন অনেকে। জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একজন এমপি।
