পুঁজিবাজারে অতালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বেশির ভাগ অর্থ বিনিয়োগের বিধান রেখে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট রুলস চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। বিধির জনমত জরিপ শেষে কিছু সংশোধন-সাপেক্ষে বিএসইসির নিয়মিত সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। চূড়ান্ত বিধিটি শিগগির কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের কথা জানিয়েছে বিএসইসি।
ব্যক্তিখাতের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যেই বিকল্প এ সব তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলোর নাম হবে ‘অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’। ফান্ড গঠনের জন্য এক বা একাধিক উদ্যোক্তা থাকতে হবে। তহবিলের ন্যূনতম আকার হবে ১০ কোটি টাকা। এতে প্রাথমিকভাবে উদ্যোক্তার অংশ ফান্ডের মোট আকারের ১০ শতাংশের কম হতে পারবে না। এ ছাড়া, রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করার সময়ই এর অন্তত ২০ শতাংশ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। উদ্যোক্তার বিনিয়োগ কমপক্ষে তিন বছরের জন্য লক-ইন (বিনিয়োগ প্রত্যাহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা) থাকবে। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীও এ ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে তাদের কমপক্ষে ৫ কোটি টাকার সম্পদ থাকতে হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোনো বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক এ ধরনের ফান্ডে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবে। তবে কোনোক্রমেই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এককভাবে ৫০ লাখ টাকার কম হতে পারবে না। উদ্যোক্তারা শুধু প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিনিয়োগ গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, দ্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট) রুলস, ২০১৫-এর অধীনে অনুমোদিত তহবিল ব্যবস্থাপক দ্বারা এ ফান্ড পরিচালিত হবে। ফান্ডের ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ অর্থ তালিকাভুক্ত নয় এমন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন সিকিউরিটিজ ও অন্য তহবিল ব্যবস্থাপক দ্বারা পরিচালিত অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে তহবিলের অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে। তহবিলগুলোর মূল উদ্দেশ্য হবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রাইভেট কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখা।
এ ফান্ড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না। মেয়াদ সর্বনিম্ন পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে সংশ্লিষ্টরা চাইলে তা আরো দুই বছরের জন্য বাড়ানো যাবে। আর এ ফান্ড থেকে যে অতালিকাভুক্ত কোম্পানিতে মূলধনী বিনিয়োগ করা হবে, সে কোম্পানি বিনিয়োগ গ্রহণের পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আবেদন করতে পারবে না। এ ছাড়া, ফান্ডের আয় শুধু নগদ লভ্যাংশ আকারে ইউনিটধারীদের মধ্যে বিতরণ করা যাবে।
