মায়ার আপিল এখনো বিচারাধীন

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৫, ০১:৪৫

অবৈধ সম্পদের মামলায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে খালাসের হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল বুধবার প্রকাশ পেয়েছে। ওই রায় অনুযায়ী মায়ার আপিল এখনো বিচারাধীন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের উপাদান রয়েছে কিনা আপিলের শুনানিতে তা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে বলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেন।

 
রায়ে বলা হয়, মায়াকে বেকসুর খালাস দেয়ার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ বিচারিক মন (জুডিশিয়াল মাইন্ড) প্রয়োগ করেনি। প্রসঙ্গত দুদক পুনর্গঠনের আগেই মায়াকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে নোটিস দেয় দুদক। এই নোটিস কমিশনের নয় এবং এই নোটিসের আইনগত ভিত্তি নেই এই বিবেচনায় হাইকোর্ট মায়াকে খালাস দেয়। আপিল বিভাগ এ প্রসঙ্গে তার রায়ে বলে, ইতিপূর্বে এই মামলায় উত্থাপিত এ প্রশ্নটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৬ ও ২৭ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ দুইটি পৃথক অপরাধ। ফলে ২৭ ধারার অপরাধের ক্ষেত্রে আলাদা কোন নোটিস দেয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর (বিএনপি নেতা) মামলায় আপিল বিভাগ এই বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। ফলে সেখান থেকে সরে আসার বড় কোন কারণ খুঁজে পাইনি আমরা। হাইকোর্টের রায়ের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়ায় তা বাতিল করে পুনরায় আপিল শুনানির  বিকল্প নেই। এজন্য সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নতুনভাবে হাইকোর্ট আপিলটি নিষ্পত্তি করবে।
 

রায়ের পর দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, আপিল বিভাগের এই রায়ের ফলে মায়ার আপিল শুনানির জন্য বিচারাধীন রইল। আপিলে নিষ্পত্তি হবে মায়াকে নিম্ন আদালতের দেয়া সাজা বৈধ কিনা। তবে এই মুহূর্তে তার সাজা বহাল রয়েছে এ কথা বলা যাবে না। তিনি বলেন, আপিলটি হাইকোর্টে পাঠানোয় তা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ফলে তা সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদকে আঘাত করেছে। এর ফলে আমি মনে করি- মায়ার সংসদ সদস্য হিসেবে থাকা উচিত কিনা সেটি সংসদ বিবেচনা করবে।  অপরদিকে মায়ার আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার বলেন, মায়ার আপিল বিচারাধীন রয়েছে। অর্থাত্ তার বিচার শেষ হয়নি। ফলে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে আইনগত কোন সমস্যা নেই।