ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে আরো সামনে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। গতকাল তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচ শেষে মাশরাফি বিন মুর্তজা সিরিজের মূল প্রাপ্তি হিসাবে অভিহিত করলেন এই আত্মবিশ্বাসকেই। শেষ ম্যাচে ৭৭ রানে হারলেও সেটা প্রভাব ফেলেনি টাইগারদের সিরিজ জয়ে। প্রথমবারের মতো ভারতকে সিরিজ হারানোর পাশাপাশি দেশের মাটিতে টানা তৃতীয় সিরিজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
প্রাপ্তি অনেক মানলেও মাশরাফির বিশ্বাস এই সিরিজ থেকে শেখারও আছে অনেক কিছু। আগামী মাসের পাঁচ তারিখ থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শুরু হতে যাওয়া সিরিজে সেই শিক্ষাটাই কাজে লাগানোর প্রত্যয় অধিনায়কের। বললেন, ‘কোন সন্দেহ নেই এই সিরিজ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি অনেক। নিজেদের সামর্থ্যে আস্থাবান ছিলাম আমরা। ভারতের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে সিরিজ জেতাটা যে কোন বিচারেই বড় সাফল্য। এ ধরনের সিরিজ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তাই আনন্দের পাশাপাশি আমি সেই শিক্ষাগুলোর কথাও বলবো। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে এই সিরিজের ভুলগুলো শুধরে নিতে চাই।’
শুধু কি আত্মবিশ্বাস? মুস্তাফিজুর রহমানকে কি সিরিজে বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলা যায় না? মাশরাফি প্রশংসায় ভাসালেন ১৩ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হওয়া এই বাঁহাতি তরুণকেও। তিন ম্যাচ সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি রায়ান হ্যারিসের রেকর্ডে ভাগ বসানো মুস্তাফিজুরকে নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘দুর্দান্ত বল করেছে সে। ভারতের মতো একটা দলের বিরুদ্ধে এমন পারফরম্যান্স; আপনাকে প্রশংসা করতেই হবে।’
বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে প্রশংসায় ভাসালেন সফরকারী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও। বাংলাদেশের আগ্রাসী মানসিকতাই তাদের খেলা পাল্টে দিয়েছে জানিয়ে ভারতীয় দলপতি বলেন, ‘তারা খুবই আক্রমণাত্মক খেলতে চায়। এই দলের সবচেয়ে বড় দিক হিসাবে আমি বলবো তারা ধারাবাহিক হয়ে উঠেছে। যদি আপনি প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে চান তাহলে এক সময় আপনি সাফল্য পাবেনই। বাংলাদেশের এই ধারাবাহিকতার পেছনে এই মানসিকতাকেই আমি বড় ব্যাপার বলে ভাবছি। কোন সন্দেহ নেই বাংলাদেশ সামনে শক্তিশালী দলগুলোকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাবে।’