হলো না হোয়াইটওয়াশ

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৫, ১১:৩২
 
সকাল থেকে আকাশের মন খারাপ।
 
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছিলো, সারা দিন বৃষ্টি হতে পারে। দুপুরের আগ পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও ছিলো; কিন্তু সেই মুখ ভারই রইলো আকাশের। খেলা শুরুর পর থেকে আর বৃষ্টি এলো না। বৃষ্টি না এলেও গ্যালারির দর্শকের মুখ কালোই হয়ে রইলো। টানা দশ ম্যাচ পর হারের সাক্ষী হতে হলো মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামকে।
 
সর্বশেষ এই ভারতের বিপক্ষেই গত বছর জুন মাসে দেশের মাটিতে ওয়ানডে হেরেছিলো বাংলাদেশ। তারপর প্রায় এক বছর পার করে এসে ভারতের বিপক্ষে গতকাল ৭৭ রানে পরাজয়ের মুখ দেখতে হলো। এর মধ্যে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ ১১টি ম্যাচ খেলেছে; একটি পরিত্যক্ত, বাকি সব জয়।
 
ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই সিরিজ নিশ্চিত করার পর এই ম্যাচে আর কোনো চাপ ছিলো না। শুধু আরেকটা হোয়াইট ওয়াশ ছিলো প্রাপ্তির সম্ভাবনায় কিন্তু টসে জিতে আগে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠানোর পর সে সম্ভাবনাটা খানিকটা ম্লান হয়ে যায়। বোলারদের বিরল এক খারাপ দিনে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ৫০ ওভারে ৩১৭ রান তুলে ফেলেন ৫ উইকেট হারিয়ে। জবাবে ৪৭ ওভারে ২৪০ রানে অলআউট হয়ে যায় মাশরাফির দল।
 
বড় এই স্কোর ধাওয়া করতে গিয়ে তামিম ইকবাল ফিরে আসেন মাত্র ৫ রান করে। এরপর অবশ্য সৌম্য সরকার আরো একটা চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেলে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বভাবসূলভভাবেই তার সে ইনিংস শেষ হলো মাঝপথে। ঠিক ৪০ রান করে আউট হলে গেলেন উইকেটে ঝড় তোলা এই ব্যাটসম্যান। এরপর লিটন দাশ ও মুশফিকুর রহিমও সেট হয়ে যথাক্রমে ৩৪ ও ২৪ রানে আউট হয়ে ফেরেন। সাকিবও সেট হয়ে একই পথ ধরেন ২০ রান করে।  শেষমেশ দারুণ ভরসা হয়ে তারুণ্যের দুই প্রতীক সাব্বির ও নাসির রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু ৪৩ রান করে সাব্বির ও ৩২ রান করে নাসির ফিরে এলে আর আশার কিছু ছিলো না ম্যাচে।
 
এর আগে অবশ্য টসে জিতে মাশরাফির ফিল্ডিংয়ে নামার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে খুব বেশি সময় নেননি মুস্তাফিজ। ইনিংসের সপ্তম ওভারের শেষ বলে সিরিজে নিজের দ্বাদশ শিকারে পরিণত করেন রোহিত শর্মাকে। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচেই ভারতের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে আউট করলেন মুস্তাফিজ। পরে সাকিব ফেরান বিরাট কোহলিকে।
 
তৃতীয় উইকেটে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সাথে নিয়ে শিখর ধাওয়ান যখন ভারতের বড় ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দিচ্ছিলেন, তখনই আঘাত হানেন মাশরাফি। ৭৩ বলে ৭৫ রান করা ধাওয়ানকে দারুণ এক স্লেয়ারে নাসির হোসেনের ক্যাচে পরিণত করেন।
 
নতুন ব্যাটসম্যান আম্বাতি রাইডু জুটি বাঁধেন ধোনির সাথে। ইনিংস সর্বোচ্চ এই জুটিতে আসে ৯৩। এরপর আবারও আঘাত মাশরাফির। এবার তুলে নেন রাইডুকে। এরপর ৬৯ রান করা ধোনিকেও তুলে নেন অধিনায়ক মাশরাফি। সবমিলিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ তিন স্কোরারকেই ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১৯৪ উইকেট নিয়ে কাল মাঠে নামা মাশরাফির ওয়ানডে উইকেটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯৬। তিন ফরম্যাট মিলে হয়ে যায় ট্রিপল সেঞ্চুরি! পরে ধোনিকেও ফেরানোয় সেই সংখ্যাটা এখন ৩০১।
 
পাশাপাশি নিজের শেষ ওভারে সিরিজে তৃতীয়বারের মতো রায়নাকেও আউট করেন মুস্তাফিজ। এই দুই পেসারের মাঝে একটা উইকেট নেন সাকিব আল হাসান কিন্তু এতে খুব একটা বাঁধ মানেনি ভারতীয় ব্যাটিং।