দ্বিতীয় ইনিংসে চার শতাধিক রানের স্কোর। স্বাভাবিকভাবেই এই সময় আফসোস হওয়ার কথা, প্রথম ইনিংসেও যদি এমন স্কোর হতো! এই আফসোসটা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরাও করছেন। তিনিও মানছেন, প্রথম ইনিংসে তারা বড় সুযোগ নষ্ট করেছেন।
কিন্তু নিজে সেঞ্চুরি করে ম্যাচটাতে একটু মান বাঁচানো রিয়াদ বলছেন, ওই প্রথম ইনিংস থেকেই তারা নিউজিল্যান্ডের বোলিং পরিকল্পনাটা বুঝতে পেরেছেন। সেটা দ্বিতীয় ইনিংসে কাজে লেগেছে এবং পরের দুই টেস্টেও কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
রিয়াদ আর সৌম্যর অসাধারণ একটা জুটিই আসলে বাংলাদেশের যা একটু মান বাঁচিয়েছে ইনিংস ব্যবধানে হারা এই টেস্ট ম্যাচে। সেই জুটির কথা বলতে গিয়ে রিয়াদ বড় একটা কৃতিত্ব দিলেন সৌম্যকে, ‘ওই সময়টাতে সৌম্যর ভূমিকাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সে অনেক ছন্দে ব্যাটিং করছিল এবং ঝুঁকি নিয়েই খেলছিল। ধরেন একজন বোলার ভালো বাউন্সার মারছে বা লাইন লেন্থে বোলিং করছে সে সময় ওভারে যদি ২-১টি বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেন তাহলে বোলার সে সময় বিপাকে পড়ে যায়। সেই কাজটা সৌম্য খুব ভালো ভাবে করছিল। আমাদের জুটিতাও ভালো যাচ্ছিল। তবে আমার মনে হয় প্রথম ইনিংসে আমরা বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছি। প্রথম ইনিংসে যদি আরেকজন বড় স্কোর করতো তাহলে খেলার ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। কিন্তু আমার মনে হয় ব্যাটসম্যানদরা খুব ভালো ইতিবাচক কিছু নিয়ে টেস্টে যাচ্ছে। তামিম-সৌম্য অসাধারণ ব্যাটিং করেছে।’
আরও পড়ুন: পৃথিবীর নীল সমুদ্র হয়ে যাবে সবুজ!
রিয়াদ বলছিলেন, তাদের প্রথম চিন্তা ছিল, প্রথম ঘণ্টায় যাতে উইকেট না যায়। আর সেই পরিকল্পনা করতে আগের ইনিংসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন রিয়াদরা, ‘প্রথম ঘণ্টায় ব্যাটিংয়ের সময় একটাই চিন্তা ছিল যে খুব সহজে যেন উইকেটটা না দেই কারণ কালকে ওই সময়টুকু টিকে গেলে আজকে কি হবে না হবে, অন্তত খুব ভালো ভাবে শেষ করতে পাড়ব। ওরাও খুব ভালো বোলিং করেছে, ওয়েগনার ধারাবাহিক ভাবে ব্যাক অফ দা লেন্থে বাউন্সার মারার চেষ্টা করেছিল। সাউদি আর বোল্টের কথা চিন্তা করলে তারা নতুন বলে চেষ্টায় ছিল সুইং করানোর। এটাই মনে হয় ওদের আসল প্রক্রিয়া। নতুন বলে ওরা ওইটা চেষ্টা করে, আর বল পরাতন হয়ে গেলে বাউন্সার মারার চেষ্টা করে। এই ব্যাপারটা আমাদের ব্যাটসম্যানদের একটা ধারণা হয়ে গেছে, আশা করছি এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট করতে পারি।’
নিজের ব্যাটিং নিয়ে রিয়াদ বলছিলেন, প্রতিপক্ষ বোলারদের ক্লান্ত করে ফেলাটাই তার ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা ছিল, ‘সময় নিয়ে খেলার চেষ্টা করেছি, ওরা ক্লান্ত হয়ে গেলে আমি আমার সুযোগগুলো নিতে পারবো এটাই ভাবনা ছিল। যেটা আমি কালকে চেষ্টা করেছি, ওরা বাউন্সার মারার পাশাপাশি ইয়র্কারও চেষ্টা করছিল। এই চিন্তায়ই ব্যাটিং করেছিলাম। তামিমের একটা দিক তুলে ধরতে চাই কারণ ও খুব ভালো ব্যাটিং করেছে, একটা সময় রাউন্ড দা উইকেটে এসে ওয়েগনার যখন ওকে বাউন্সার দিচ্ছিল আমার মনে হয় আমাদের দলে তামিম সবচেয়ে ভালো পুল-হুক খেলে, ও ওই সময়টা টিকে যায়। এই ব্যাপারটা আমার খুব ভালো লেগেছিল। তাই আমিও চেষ্টা করেছি একই জিনিসটা করার।’
ইত্তেফাক/কেআই
