মারভেল কমিকস সবসময়ই ভক্তদের মাতিয়ে রাখে নানা সুপারপাওয়ারের সুপার হিরো দিয়ে। কমিকস থেকে বেরিয়ে আসা এ সব সুপার হিরো সবসময়ই নতুন কিছু উপহার দেয় ভক্তদের। স্পাইডারম্যান, আয়রন ম্যান ও এক্স-ম্যানের মতো সুপার হিরোদের জন্ম দিয়েছে মারভেল। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালো নতুন এক সুপার হিরো ‘অ্যান্ট ম্যান’। মারভেলের এই সুপার হিরোর কথা জানাচ্ছেন দিলশাদ ইসলাম।
মারভেল কমিকসের ভক্তদের সাথে ‘অ্যান্ট ম্যান’ বা ‘পিঁপড়ামানব’-এর পরিচয় অনেক দিনের। সম্প্রতি তাদের জনপ্রিয় এই সুপার হিরো কমিকস থেকে বেরিয়ে রুপালি পর্দায় পা রেখেছে। তবে এই পরিকল্পনা হুট করে নেওয়া হয়নি। প্ল্যান করা হয়েছিল অনেক আগে থেকে। সবকিছু মিলিয়ে তাদের প্রস্তুত হতে সময় লেগেছে। স্পাইডার ম্যান, আয়রন ম্যান, এক্স-ম্যানের মতো সুপার হিরোদের পাশে মারভেলের ‘অ্যান্ট ম্যান’-এর নামটা খুব জনপ্রিয় নয়। সিনেমার পর্দায়ও দেখা যায়নি এই সুপার হিরোকে। মারভেলের কমিক বইয়ের পাতাতেই রয়ে গিয়েছে এই ‘অ্যান্ট ম্যান’। তবে এখন সময় হয়েছে তার কমিকসের পাতা থেকে সিলভার স্ক্রিনে উঠে আসার। কয়েকদিন আগেই সিনেমার প্রথম পোস্টার আর ট্রেলর রিলিজ করা হয়েছে। সেই থেকে শুধু কমিকস ভক্তদের কাছেই না, বিশ্বজুড়ে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে এই নতুন সুপার হিরো।
কমিকবুক লেখক স্ট্যান লির সৃষ্টি ‘অ্যান্ট ম্যান’ সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। অ্যান্ট ম্যানের সবচেয়ে মজার একটি দিক হলো এ সুপার হিরো পিঁপড়ার সমান ছোট হতে পারে। আর শক্তিও বেড়ে যায় পিঁপড়ার মতই। শুধু তাই নয়, তিনি তার বিশেষ স্যুটের সাথে সাথে একটি হেলমেট বানান, যা তাকে সাহায্য করে পিঁপড়াদের নিয়ন্ত্রণ করতে। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি এভাবেই সোচ্চার হয়ে ওঠেন। আর এভাবেই একসময় তিনি হয়ে যান সুপার হিরো। কমিকসের এই থিমটিকে ঘিরেই করা হচ্ছে ‘অ্যান্ট ম্যান’ সিনেমাটি। ‘অ্যান্ট ম্যান’-এর ভূমিকায় সিনেমাটিতে অভিনয় করছেন ফিল রুড। আর ড. হেনরি পাইমের চরিত্রে থাকছেন ‘ওয়াল স্ট্রিট’ খ্যাত মাইকেল ডগলাস। এছাড়াও থাকছেন এভানজেলিন লিলি, কোরি স্টোলের মতো তারকারা। প্রয়োজনে পিঁপড়ার মতোই ছোট হয়ে যাওয়ার অসাধারণ এক ক্ষমতা নিয়ে ‘অ্যান্ট ম্যান’-কে লড়তে দেখা যাবে প্রতিপক্ষের সঙ্গে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন পেইটন রিড। বায়োফিজিস্ট ও সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টারের হেড ডক্টর হেনরি ‘হ্যাঙ্ক’ পিম আবিষ্কার করেন, ‘পিম পার্টিকলস’ নামের এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যা দিয়ে ইচ্ছামতো নিজের সাইজ পরিবর্তন করা যায়। নিজের এই কীর্তিকে কাজে লাগিয়ে সুপার হিরো হতে চান তিনি। অবশেষে তিনি হয়ে যান ‘অ্যান্ট ম্যান’। তবে অ্যান্ট ম্যানের কাজ থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি এই দায়িত্ব তুলে দেন স্কট ল্যাং নামে এক ব্যক্তির কাঁধে। জেলখানার কয়েদি স্কট ল্যাং অন্যদের তুলনায় বেশ আলাদা। ব্যাপারটা নজরে আসে ড. হেনরি পাইমের। কারাগার থেকে ছাড়িয়ে স্কটকে নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসেন তিনি। স্কটের দায়িত্ব একটাই— সংকটময় পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়ার জন্য লড়াই করা, যেটা তার মজ্জাগত। আর নিজের পরিবারকেও বাঁচানো। স্কটকে তাই বানানো হয় ‘অ্যান্ট ম্যান’। ভক্তদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৭ জুলাই মুক্তি পাবে ‘অ্যান্ট ম্যান’ সিনেমাটি।
