টিকে থাকাই সৌম্যর পরিকল্পনা ছিল

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০৯:৪৯

সাকিব আল হাসান ইনজুরিতে পড়ায় ওয়ানডে দল থেকে টেস্ট দল রেখে দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রশ্নও উঠেছিল—ইনফর্ম সাব্বির রহমান রুম্মনকে না রেখে সৌম্য সরকারকে রাখা হলো কেন? সেই প্রশ্নের জবাব দিতে সময় নিলেন না সৌম্য। বাংলাদেশ যদিও হ্যামিল্টনে ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ হারল। কিন্তু সৌম্য সরকারের ১৪৯ রানে ভর করে পরাজয়ের ব্যবধানটা একটু কমাতে পারল বাংলাদেশ।

এই ইনিংস খেলার পর সৌম্য বলছেন, ইনিংসের একটা পর্যায়ে তিনি আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেছেন ঠিকই। কিন্তু একটা বড় সময় তিনি খেলে গেছেন স্রেফ টিকে থাকার জন্য। কেন টিকে থাকাটা জরুরি ছিল, সেটা বলতে গিয়ে সৌম্য বলছিলেন, ‘ওই নির্দিষ্ট অবস্থায় আজ আমার লক্ষ্য ছিল কেবল উইকেটে টিকে থাকা। এই ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষে আমি যদি তাড়াহুড়া করতাম, আমার ধারণা, সেটা আমার ওপর এবং আমার দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। আমি এই উইকেটে ও তাদের এই ধরনের বোলিংয়ে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। একবার যখন সেট হয়ে গেছি, তখন আমি বলের মান বিচার করে খেলার চেষ্টা করেছি। আমরা অনেক রান পেছনে ছিলাম, দুই দিন হাতে ছিল। ফলে এসব জিনিস মাথায় নিয়েই খেলতে হয়েছে আমাকে। আমরা যেহেতু আস্তে আস্তে এগিয়েছি, ফলে অন্য প্রান্তে রিয়াদ ভাই থাকাটা খুব ভালো হয়েছে।’

আরও পড়ুন: বগুড়ায় ৯ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

তবে শুধু টিকে থাকার চেষ্টা করলে যে এক সময় হার মানতে হতো, এটাও জানেন সৌম্য। আর সে জন্যই একটা পর্যায়ে এসে কিছু পাল্টা আক্রমণ করেছেন, ‘এটাও ঠিক যে, আমি উপলব্ধি করেছি, আমি যদি শুধুই টিকে থাকার চেষ্টা করি, তাহলে একটা ভালো বলেই আমার উইকেট চলে যেতে পারে। ফলে আমার রানও করা হবে না। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে কিছুটা আক্রমণাত্মকও হতে হবে। প্রতি বলেই আক্রমণ করা যাবে না। কিছু আক্রমণ করতে হবে। যাতে ওরা পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হয়।’

নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এরকম বোলিং খেলার সুযোগ পান না। সৌম্য অকপটে স্বীকার করলেন, তিনি অন্তত এরকম বোলিংয়ের বিপক্ষে এর আগে কখনো খেলেননি, ‘আমার মনে হয় না যে, আমি এই ধরনের বোলিং পরিকল্পনার বিপক্ষে আগে খেলেছি। বল কাছাকাছি লেন্থে পড়ে বাউন্স করছিল। আমি এই ধরনের ফিল্ড সেটাপের বিপক্ষেও আগে খেলিনি।’

সবশেষে সৌম্যর আফসোস আছে। তিনি ইনিংসটা আরেকটু বড় করতে পারলে হয়ত নিউজিল্যান্ডকে আরেকবার ব্যাটিংয়ে নামানো যেত। সেই আফসোসের পরও সৌম্য স্বীকার করছেন, প্রথম সেঞ্চুরিটা তিনি ঠিকই উপভোগ করছেন, ‘আমার মনে হয়, আমি আরেকটা লম্বা সময় ব্যাট করলে, ওরা আরেকবার ব্যাট করতে বাধ্য হতো। আমি নিশ্চিত যে, আমি থাকলে রিয়াদ ভাই আগের মতোই ব্যাট করে যেত। তারপরও প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি সবসময়ই বিশেষ কিছু। আমি যখন টেস্ট সিরিজের দলে ডাক পেলাম, নিজের প্রথম ফিফটির কথা ভাবছিলাম। এই হ্যামিলটনেই সেটা পেয়েছিলাম।’

ইত্তেফাক/কেআই