ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সড়ক মেরামতে নতুন প্রযুক্তি

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৫, ০০:০৩

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন রাস্তা মেরামতে এখন থেকে পুরনো নির্মাণ সামগ্রী পুনরায় ব্যবহার করা হবে। গতকাল অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদিত এ প্রকল্পটির নাম ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সড়কসমূহের রক্ষণাবেক্ষণে জন্য কোল্ড রি-সাইক্লিং প্লান্ট ও ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ’। প্রায় ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ২০১৬ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করবে বলে একনেক সভায় জানানো হয়।

 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল পরিকল্পনা কমিশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে সড়ক মেরামতের ক্ষেত্রে একেবারে নতুন এ প্রযুক্তি নিয়ে একনেক পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ঢাকার রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে প্রতিবছর রাস্তা মেরামত করতে হচ্ছে। এতে রাস্তার উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশন ঠিকমতো না হওয়ায় জলাবদ্ধতা বেড়ে যাচ্ছে। এ জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকার দক্ষিণে রাস্তা মেরামতে পুরনো ব্যবহূত উপাদানগুলোর ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পুনরায় ব্যবহার করার। এর ফলে রাস্তার উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে না। এ কাজটি করতে যে প্রযুক্তি এখানে ব্যবহূত হবে তার নাম ‘কোল্ড রি-সাইক্লিং প্ল্যান্ট’। এতে করে রাস্তাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ যেমন সহজ হবে তেমনি অর্থেরও সাশ্রয় হবে।
 
একনেক সভায় ২০০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৭ টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৬৫৩ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য ১৩৩২ কোটি টাকা এবং বাকি ১৮ কোটি টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন। অনুমোদিত ৭ টি প্রকল্পই নতুন।
 
ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সিলেট শহরে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে একনেক সভায় ১৩৮১ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদিত এ প্রকল্পটির নাম আরবান রেজিল্যান্স প্রজেক্ট। সভা শেষে জানানো হয়, রাজউক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও পরিকল্পনা কমিশন যৌথভাবে ২০২০ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
 
 প্রকল্পের আওতায় রাজউক ঝুঁকি-সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটি এসব শহরের ভূমি জোনিং করে ঠিক করে দেবে কোন এলাকায় সর্বোচ্চ কত তলার ভবন তৈরি করা যাবে। সেই সাথে এটাও নিশ্চিত করবে যাতে করে এসব শহরে নতুন করে পুকুর ভরাট করে আর বিল্ডিং তৈরি করা না হয়। বিল্ডিং তৈরিতে যেসব উপাদান ব্যবহূত হবে তা ভূমিকম্প সহনশীল কি না রাজউক তাও পরীক্ষা করে দেখবে। অপরদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন স্যাটেলাইট ও কন্ট্রোল অফিস নির্মাণসহ হুইল ড্রেজার, এক্সকাভেটর, ক্রেন, মোবাইল জেনারেটরের মতো ভারী যন্ত্রপাতি কিনবে।
 
রেলওয়ের মোট ২৪৯৪ টি লেভেল ক্রসিং গেটের মধ্যে ৬৭২ টি লেভেল ক্রসিং গেটে সরকারিভাবে ১৮৮৯ জন গেট-কিপার নিয়োগসহ সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে একনেক সভায় আলাদা দুটো প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। মোট ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০১৭ নাগাদ প্রকল্প দুটো বাস্তবায়ন করবে।
 
কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি পোল্ডার নতুন করে মেরামত করতে মোট ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এদিকে সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৩০টি উপজেলায় শস্য নিবিড়তা বাড়াতে একনেক সভায় অপর একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া সভায় ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার সাঙ্গু ও চাঁদখালী নদীর উভয় তীর সংরক্ষণে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।
 
রোহিঙ্গা শুমারি
 

বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশে অবস্থানকারী অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিকদের  (রোহিঙ্গা) ছবি ও সাধারণ তথ্যসম্বলিত ডাটাবেজ তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছে সরকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৬ সালের মার্চ নাগাদ এ ডাটাবেজ তৈরির কাজ সম্পন্ন করবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, এ শুমারির মধ্য দিয়ে অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিকদের বর্তমান অবস্থান এবং বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পূর্বে তাদের মূল বাসস্থানের ঠিকানা নিরূপণ করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অন্তর্নিহিত কারণ জানা যাবে।