নাজিরপুরে ১৩০ বাড়ির আঙিনায় ফলছে আঙ্গুর

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৫, ০০:০৬

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নে আঙ্গুর ফল চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। দু’তিন বছর আগে শখের বসে দু’একটি পরিবার আঙ্গুর চাষ শুরু করে। এদের দেখে এখন অনেকেই আঙ্গুর চাষ করে সুফল পাচ্ছেন। কেমিক্যাল ও বিষমুক্ত আঙ্গুর ফল নিজেরা খাচ্ছেন এবং আত্মীয় স্বজনকে দিয়ে ও কিছু বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। সরেজমিন দেখা যায়, মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চর মাটিভাঙ্গা, মাটিভাঙ্গা ও মাহামুদকান্দা গ্রামে কমপক্ষে ১৩০ টি বাড়িতে আঙ্গুর ফল চাষ হচ্ছে। এ সকল বাড়ির মাচায় ঝুলছে রসে টসটসে থোকা থোকা আঙ্গুর ফল।

 
চরমাটিভাঙ্গা গ্রামের চাষি বেলায়েত শেখ জানান, ৩ বছর আগে তিনি তার বসতঘরের ছাচিনায় আঙ্গুরের চারা লাগান। গাছ বৃদ্ধি পেলে আঙ্গিনায় মাচা করে তার উপরে তিনি তা উঠিয়ে দেন। প্রথম বছর কম ফলন হলেও পরের বছর ২০ কেজি পরিমাণ ফল ধরে। আঙ্গুর সংগ্রহের পর বেলায়েত শেখ গাছের অগ্রভাগ কেটে দেন। নতুন করে আগা গজিয়ে বিস্তৃত হয়ে এ বছর তার ৪০ কেজির বেশি ফল ধরেছে। নাতি-নাতনি নিয়ে নিজেরা খেয়ে এবং আত্মীয়দের দিয়ে ও কিছু বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাজারে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে এ আঙ্গুর ফল বিক্রি হয়। জানা যায়, এ গ্রামে ছায়েম উদ্দিন শেখ তার বাড়িতে প্রথম আঙ্গুর ফলের চাষ করেন। এরপর মাহামুদকান্দা গ্রামে সোহেল মোল্লা আঙ্গুর চাষ শুরু করেন। আর তৃতীয় চাষি বেলায়েত শেখ। এভাবে পর্যায়ক্রমে এ ফল চাষে বিস্তৃতি ঘটে।
 

নাজিরপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের অত্র অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা ননী গোপাল মজুমদার জানান, চাষিরা দু’একজন আঙ্গুর চাষ শুরু করলে প্রথম দিকে ফল কিছুটা টক হলেও তারা নিরুত্সাহিত হননি। পরামর্শ মতো সুষম সার ব্যবহার ও পটাশ সেপ্র করায় ফল খুবই মিষ্টি হয়েছে এবং ফলন বেড়েছে। বর্তমানে এ অঞ্চলে আঙ্গুর চাষ শখের গন্ডি ছাড়িয়ে বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। কোন কোন চাষি দুই থেকে আড়াই মণ আঙ্গুর ফলিয়েছেন।