৪০ হাজার অভিবাসীকে আশ্রয় দিতে রাজি ইইউ

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৫, ১৮:২১
 
সমুদ্রপথে ইতালি ও গ্রিসে পৌঁছানো ৪০ হাজার অভিবাসীকে আশ্রয় দেবে ইউরোপ। এ সব অভিবাসীকে ইউরোপের দেশগুলোতে ভাগ করে নিতে সম্মত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ইইউ নেতাদের এক শীর্ষ বৈঠকে রাতভর আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
 
বৈঠকে ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক জানান, আগামী দুই বছরে এই ৪০ হাজার অভিবাসীকে ভাগ করে নেয়া হবে। তবে অভিবাসীদের ভাগ করে নেয়ার এই প্রক্রিয়ায় দেশগুলোর জন্য মাথাপিছু কোনো কোটা বা বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তিনি বলেন, কেবল পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই এই সংকট কাটিয়ে ওঠা যেতে পারে। এর আগে টাস্ক নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আসা অভিবাসী প্রত্যাশীদের ভাগ করে নেয়ার জন্য ইইউ সদস্যভুক্ত সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান।
 
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নতুন তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, নৌকাযোগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এবার ঋণ সংকটে জর্জরিত গ্রিসে ৬৩ হাজার এবং ইতালিতে ৬২ হাজার অভিবাসী প্রত্যাশী আশ্রয় নিয়েছেন। ইইউ নেতারা এই এক লাখ ২৫ হাজার অভিবাসী থেকে ৪০ হাজারকে আগামী দুই বছরে সদস্যভুক্ত বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের রাজি করছেন। ওই বৈঠকে আরো ২০ হাজার অভিবাসীকে ইউরোপের ‍বাইরে পুনর্বাসনের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছান ইইউ নেতারা।
 
বৈঠক শেষে টুস্ক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইইউ দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী জুলাই নাগাদ বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। ইইউ নেতারা ইউরোপের বাইরে থেকে আসা ২০ হাজার অভিবাসীকেও পুনর্বাসন করবেন।’
 
এদিকে, ব্রাসেলস থেকে বিবিসির এক সংবাদিক জানান, বুলগেরিয়া ও হাঙ্গেরিকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ, বুলগেরিয়া থেকেই হাজার হাজার লোক স্থলসীমা পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। এ ছাড়া, হাঙ্গেরিতে দারিদ্র্যপীড়িত লোকের সংখ্যা বেশি। তবে ব্রিটেন নিজেকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেছে। আর পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো কোটা নির্দিষ্ট করে দেয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।
 
ইংল্যান্ড ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর এই ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যাটিও রেনজি ইইউর পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত দাবি করে অভিবাসন সংকট সমাধানে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে আরো জোরদার সহযোগিতা চেয়েছেন।