কলাবাগানে গুলি করে আওয়ামী লীগ নেতার ভাগ্নেকে হত্যা

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৫, ২৩:৫৯

রাজধানীর কলাবাগান থানার দুইশ’ গজ সামনে শুক্রবার মধ্যরাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ওবায়দুল হাসান (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বিএসসি’র আপন ভাগ্নে। নিহত ওবায়দুল পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে সানোয়ারা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সাব-জিরো (কোয়ালিটি) আইসক্রিম পার্লারে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পদে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার রাতে ৫৭, সার্কুলার রোড (ভূতের গলি) কলাবাগানের বাসা থেকে মায়ের জন্য ওষুধ আনতে বের হন তিনি। ওষুধ কিনে বাসায় ফেরার পথে কলাবাগান থানার সামনের একটি গলিতে দুর্বৃত্তরা তার মাথায় গুলি করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার কাছে থাকা মোবাইল, মানিব্যাগ ও হ্যান্ডব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইকারীদের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 
কলাবাগান থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাহাঙ্গীর নামে এক রিকশা চালক ওবায়দুলকে থানায় নিয়ে আসেন। তখনো পরিচয় অজ্ঞাত ছিলো। তিনি দ্রুত ঐ যুবককে হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত পৌনে দুইটার দিকে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ছিনতাইকালে তাকে গুলি করা হয়েছে। নিহত যুবকের সঙ্গে কারও শত্রুতার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাছাড়া ব্যাগ ও মোবাইল ফোন দিয়ে দেয়ার পর কেন তাকে গুলি করা হলো এটা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
 
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিকশা চালক আব্দুল করিম বলেন, ওষুধ কিনে ফেরার পথে ১০৩, সার্কুলার রোড (ভূতের গলি) পৌঁছালে একটি মোটর সাইকেলে তিন যুবক আসে। তারা অস্ত্র ধরে ওবায়দুলের কাছ থেকে সব নিয়ে নেয়। ওবায়দুল ভীত হয়ে সব দিয়ে দেন। এরপরও তিনজনের একজন বলে ‘ওই গুলি কইরা দে’। এরপর এক যুবক ওবায়দুলের মাথায় গুলি করে। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর তিনি ওবায়দুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
 
ওবায়দুলের সহকর্মী অরূপ রতন রায় জানান, রাতে ওবায়দুলের স্ত্রীর কাছে খবর পেয়ে তিনি প্রথম হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে ওবায়দুলকে মৃত অবস্থায় পান। ওবায়েদের সঙ্গে পেশাগত বা পারিবারিকভাবে কারও কোন শত্রুতা থাকার কথা কখনো শুনেননি। ওবায়দুল বাসা আর অফিস এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন।
 
নিহতের বড় ভাই শেখ আহমেদ জানান, গুলির ঘটনার দশ মিনিট আগেও ওবায়দুল তার স্ত্রী সোনিয়ার সাথে মোবাইলে কথা বলেছিলেন। ৯ ভাইবোনের মধ্যে ওবায়দুল ছিলেন সবার ছোট। গত বছর নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামের লোহাগড়ার মেয়ে সোনিয়াকে বিয়ে করেন ওবায়দুল। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী ও মাকে নিয়ে কলাবাগানের ৫৭, নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসায় থাকতেন। ঐ বাড়ির মালিক তাদের মামা নূরুল ইসলাম বিএসসি। তবে ওবায়দুল কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চাঁন্দগাঁও এলাকার পূর্বষোল শহরের খাজা রোডে। বাবা মৃত হাসান মিয়া।
 
কলাবাগান থানা পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কপাল থেকে এক ইঞ্চি পরিমাণ উপরিভাগে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। গুলি মাথার পেছনের অংশ ভেদ করে নাই। এছাড়া শরীরের অন্যকোন অংশে যখম বা গুলির চিহ্ন ছিলো না। নিহতের ময়না তদন্তকারী চিকিত্সক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন ওবায়দুল। গুলিটি কপাল দিয়ে প্রবেশ করে মাথার পেছন অংশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। তাই গুলিটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের খালাত ভাই ইয়াসির মো. আদনান বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে ছিনতাইকালে গুলিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে ব্যাগ দিয়ে দেয়ার পরও ছিনতাইকারীরা কেন গুলি করেছে বা এটা পরিকল্পিত কিনা বিষয়টি সামনে নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে। সেখান থেকে আসামিদের শনাক্ত ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত মোটর সাইকেলটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে খুনীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।