আজ ১০ রমজান। দেখতে দেখতে মাহে রমজানের প্রথম দশক রহমতের সমাপ্তি ঘটে গেলো। ৬১৯ খৃস্টাব্দের রমজান মাসকে বলা হয়েছে শোকের বছর। ৬১৯ খৃস্টাব্দে রমজানে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সম্মানীত চাচাজান আবু তালিব অতি বৃদ্ধ অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে চলে যান। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম আট বছর বয়স কালে দাদা আবদুল মুত্তালিবকে হারান, সেই সময় আবূ তালিব ইয়াতীম ভাতিজাকে লালন-পালনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মক্কার বাইরে সিরিয়া, বসরা যান বাণিজ্য উপলক্ষে।
২৫ বছর বয়সে তদানীন্তন বিশ্বের সেরা মহিলা বণিক হযরত খাদীজার সঙ্গে বিয়ে দেন। ৪০ বছর বয়সে প্রিয় ভাতিজা আল্লাহর নবী হলে তিনি তাঁকে বুকে আগলে রাখেন বিপদে-আপদে তাঁর পাশে থাকেন। সেই চাচাজান ইন্তেকাল করলে তিনি শোকে কাতর হয়ে পড়েন। সেই রমজানে তাঁর প্রিয় সহধর্মিণী হযরত খাদীজা রাদি আল্লাহু তা’আলা আন্হা ৬৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাঁর গর্ভেই জন্মগ্রহণ করেন ২ পুত্র ও চার কন্যা। তিনিই খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমাতুয্ যাহ্রা রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্হার আম্মাজান।
হযরত খাদীজা রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্হাকে শাদী করার পর থেকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম একাগ্রমনে আল্লাহ্র নৈকট্য পাবার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। তিনি হিরা গুহায় মুরাকাবা করতে লাগলেন। হযরত খাদীজা রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্হা প্রায়শ স্বামীর সান্নিধ্যে যেতেন। প্রিয়নবী (সা.)-এর ৪০ বছর বয়সকালে জিবরাঈল ফেরেশ্তা তাঁর কাছে আল্লাহ্র ওহী নিয়ে এলেন, তিনি দুনিয়ায় নবূওয়তের অভিষেকে অভিষিক্ত হলেন। হিরা গুহা থেকে নেমে এসে বিবি খাদীজা (রাদি.) কে সব ঘটনা বললেন। হযরত খাদীজা (রাদি.) সব শুনে বললেন আপনি এক আল্লাহ্র রসূল। এই বলে তিনি সর্ব প্রথম ঈমান আনলেন। তাঁর ইন্তেকালে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম খুবই শোকার্ত হয়েছিলেন। বর্তমান লেখক মক্কা মুকাররমায় জান্নাতুল মুআল্লায় সস্ত্রীক ২০০১ খৃস্টাব্দে এই মহীয়ষী মহিলার মাযার শরীফ যিয়ারত করে ধন্য হয়েছেন।
হযরত খাদীজা রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্হা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৬৪ বছর বয়সে, স্বামী সরকারে দো আলম নূরে মুজাস্সাম হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের উপস্থিতিতে। তিনি স্বামী কে বলেন, আবুল কাসেম! ফাতিমাকে দেখবেন। তখন ফাতিমা রাদি আল্লাহু তা’আলা আন্হার বয়স ১৪ বছর। হযরত খাদীজা রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্হার শেষ গোসল প্রদান ও কাফন পরানোর পর জানাজার সালাত শেষে প্রিয়নবী (সা.) তাঁকে জান্নাতুল মু’আল্লায় একটা যয়তুন গাছের ছায়ায় দাফন সম্পন্ন করেন।