মাশরাফিরা অনুপ্রেরণা যুবদলের

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৫, ০১:৩১

জাতীয় দলের পারফরম্যান্সকে নিজেদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা মনে করছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান। তার বিশ্বাস, আগামী বিশ্বকাপ ও সামনের পথ চলাতে যুবাদের উত্সাহ জোগাবে বড়দের পারফরম্যান্স।

 
ওয়ানডে সিরিজ খেলতে রবিবার ভোর সাড়ে তিনটায় দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন যুবারা। শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মেহেদি হাসান জানালেন, মাশরাফিদের সামপ্রতিক পারফরম্যান্সে বড় হয়েছে তাদের স্বপ্নের সীমানা। তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় দল এখন যেভাবে খেলছে, বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান ও ভারতকে যেভাবে হারাল, তাতে আমরাও দারুণ অনুপ্রাণিত হয়েছি। সামনে এগিয়ে যাওয়ায় দারুণ উত্সাহ পাচ্ছি আমরা। পুরো ক্রিকেট বিশ্বেই আমাদের এখন অনেক বেশি সম্মান।’
 
আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে হবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের একাদশ আসর।
 
তিনটি ওয়ানডে এবং দুটি করে ওয়ানডে-টি টোয়েন্টি খেলতে মঙ্গলবার ঢাকায় পা রাখছে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দল। তার আগেই আজ ভোরে সেই দেশে উড়াল দিচ্ছে বাংলাদেশ যু্ব দল।
 
গত এপ্রিলে বাংলাদেশ সফর করে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল। বাংলাদেশ যাচ্ছে ফিরতি সফরে। দুই দলই সিরিজগুলো খেলছে আগামী বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে।
 
সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
 
দেশের মাটিতে গত এপ্রিলের সিরিজে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৬-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সেই সিরিজেই বড় অনুপ্রেরণা খুঁজতে চাইছে যুবারা।
 
সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নদের আমরা দেশের মাটিতে যেভাবে হারিয়েছি, সেই আত্মবিশ্বাস আমাদের অনেক কাজে লাগবে। আশা করি, আবারও ভালো একটি সিরিজ খেলে আমরা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে পারব।’
 
এপ্রিলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর আগে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েও যুব ওয়ানডে সিরিজ জিতে এসেছেন মেহেদিরা। এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য গত ১ জুন থেকে বিকেএসপিতে নিবিড় অনুশীলন করেছে দল।
 
অধিনায়ক জানালেন, দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সি উইকেটের জন্য পাথরের স্ল্যাব বিছিয়ে ব্যাটিং অনুশীলন করেছি। নেটে বাউন্সি উইকেট বানিয়ে অনুশীলন করেছি। আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে।”
 
বিশ্বকাপ হবে দেশের মাটিতে, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে খেলা কতটা কাজে দেবে, সেটার ব্যাখ্যা দিলেন কোচ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আসলে ম্যাচ অনুশীলনই মূল কথা। সেটা যেখানেই হোক। দক্ষিণ আফ্রিকায় জিতলে আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেশি থাকবে। তাছাড়া শুধু বিশ্বকাপই না, এই ছেলেরা এক দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবে। তখন এই অভিজ্ঞতা ওদের কাজে লাগবে।” দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও বাংলাদেশের ভাবনায় মূলত বিশ্বকাপই আছে। বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দলে তাই স্পেশালিস্ট পেস বোলার মাত্র ৩ জন, সঙ্গে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। কোচ মিজানুর রহমানের ব্যাখ্যা, “আমাদের মূল শক্তি স্পিন। নিজেদের শক্তির জায়গাটাতেই আমরা জোর দিতে চাই।”
 
রবিবার ভোর সাড়ে তিনটায় ঢাকা ছাড়বে তরুণ ক্রিকেটাররা। আগামী ২ জুলাই প্রস্তুতি ম্যাচের পর ৫ জুলাই প্রথম যুব ওয়ানডে হবে ডারবানের কিংসমিডে। ডারবান ছাড়া খেলা হবে পিটারমারিজবার্গে।- বিডি নিউজ
 
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের যুব দল
 
মেহেদি হাসান (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন (সহ-অধিনায়ক), জয়রাজ শেখ, সাইফ হাসান, পিনাক ঘোষ, সাইফ উদ্দিন, শাহানূর রহমান, আব্দুল হালিম, মেহেদি হাসান রানা, রিফাত প্রধান, সঞ্জিত সাহা, শাওন গাজি,  প্রসেঞ্জিত দাস, মোসাব্বেক হোসেন।
 

স্ট্যান্ড বাই: জাকের আলি, নাহিদ হাসান, সিফাত ইসলাম, শফিউল হায়াত।