‘আমদানিকৃত গম পরীক্ষানুযায়ী খাবার উপযোগী’

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৫, ১৮:৪০
 
 
দেশে গম আমদানি সংক্রান্ত বিষয়ে সৃষ্ট নানারকম অস্পষ্টতা দূর করার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক ব্যাখ্যায় রবিবার ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত গম, টেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী মানুষের খাবার উপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
এছাড়াও, প্রদত্ত ব্যাখ্যায় আমদানিকরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিয়মতান্ত্রিকতা উল্লেখ করার পাশাপাশি আমদানিকৃত গমের নমুনা সংগ্রহ করে অন্য যে কেউ এর গুণাগুণ পরীক্ষা করে দেখতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয় তাকে সর্বাত্মক সহোযোগিতা করবে বলেও জানানো হয়।
 
মন্ত্রণালয় জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের ল্যাবরেটরিতে বর্তমান মহাপরিচালকের তত্ত্বাবধানে সারাদেশ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সিলগালাবস্থায় সংগৃহীত গমের নমুনা পুনরায় পরীক্ষা করে গমের মান সম্পর্কে কোন বিরূপ তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া উক্ত গমের নমুনা বিসিএসআইআর (সাইন্স ল্যাবরেটরি)-এর গবেষণাগারে গমের বিনির্দেশ অনুযায়ী প্যারামিটারসমূহ পরীক্ষা করেও কোন বিরূপ তথ্য পাওয়া যায়নি।
 
খাদ্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। খাদ্য অধিদপ্তর কখনই পচা ও খাবার অনুপযোগী গম আমদানি করেনি বা করেনা। যেকোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা নিজ উদ্যোগে আমাদের যে সমস্ত গোডাউনে ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত গম মজুদ রয়েছে সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশের যেকোন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করব।
 
মন্ত্রণালয় আরো জানায়, দেশের গমের চাহিদা মেটানোর জন্য দীর্ঘকাল থেকে সরকার বিদেশ থেকে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে গম আমদানি করে আসছে। সর্বনিম্ন দরদাতাকারীর সঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তর চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এই গম আমদানি করে। চুক্তির শর্ত মোতাবেক গমের মান নির্ণয়ের জন্যে গমের বিনির্দেশ এ ৯টি প্যারামিটার রয়েছে। উক্ত প্যারামিটারের সঙ্গে গমের মান সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই খাদ্য অধিদপ্তর গম সরবরাহ নিয়ে থাকে।
 
বর্তমান বছরে মোট ৬ লাখ মে. টন গম আমদানির জন্য ১২টি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরমধ্যে ৪টি দরপত্রের বিপরীতে ২টি কোম্পানি ব্রাজিল থেকে গম এনে ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০১৫ মাসে সরবরাহ করে। উক্ত গম ল্যাবরেটরি টেস্টে চুক্তির বিনির্দেশ মোতাবেক গ্রহণযোগ্য মাত্রার মধ্যে হওয়ায় খাদ্য অধিদপ্তর তা গ্রহণ করেছিল। 
 
সম্প্রতি কিছু পত্র-পত্রিকায় উক্ত গম সম্পর্কে বিরূপ সংবাদ প্রকাশ করায় খাদ্য মন্ত্রণালয় তার প্রতিবাদে গত ২৪ জুন ২০১৫ তারিখে একটি প্রেসনোট জারি করে। উক্ত প্রেসনোটে পচা কিংবা মানুষের খাবার অনুপযোগী কোন গম পাওয়া যায়নি মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরেও কিছু কিছু পত্রিকা উক্ত গম সম্পর্কে বিরূপ সংবাদ প্রকাশ করছে।
 
খাদ্য মন্ত্রণালয় তাদের ব্যাখ্যায় অহেতুক ভুল ও অনুমান নির্ভর তথ্য প্রকাশ করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্যও সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানায়।