‘বাংলাদেশ একটি মিরাকল, কষ্ট লাগে খালেদার জন্য’

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৫, ১৯:৫৮
 
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, একসময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন-বাংলাদেশ হবে তলাবিহীন ঝুড়ি, এখানে যতোই সাহায্য দেয়া হোক না কেন, লাভ হবে না। সেই বাংলাদেশ আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। যেই বাংলাদেশকে উন্নত দেশগুলো একসময় উন্নয়নের পরীক্ষামূলক দেশ হিসেবে দেখতো, সেই দেশ আজ উন্নয়নের মডেল। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই এদেশের উন্নয়ন বিষ্ময়কর। ভারতের নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন এবং সেদেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একই কথা বলে গেছেন। রবিবার জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।
 
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কষ্ট লাগে খালেদা জিয়ার জন্য, তিনি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেননি। গতকাল (শনিবার) একটি ইফতার অনুষ্ঠানে মোনাজাতে তিনি বললেন-এই সরকারের ওপর যেন গজব নাজেল হয়। তিনি কত হীন, কত নীচ। এই নেত্রী নিষ্পাপ শিশু হত্যা করেছিলেন। তিনি আন্দোলন, নির্বাচন ও রাজনীতিতে পরাজিত হয়েছেন। দম্ভ করে একসময় বলেছিলেন-এই সরকারের পতন না ঘটিয়ে তিনি ঘরে ফিরবেন না। সারাবিশ্ব অবাক হয়ে দেখল-আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি ঘরে ফিরে গেলেন। এখন যদি তাকে প্রশ্ন করি-কোথায় আমার সেই বোন, মা, শুিশু, গাড়িচালক, যাদেরকে আপনি পুড়িয়ে মেরেছিলেন?  এই হত্যার জন্য খালেদা জিয়াকে একদিন আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’
 
বাংলাদেশের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা কোথায় ছিলাম, কোথায় এসেছি। এখন মাথাপিছু আয় প্রায় চার হাজার ডলারের মতো। বিশ্বব্যাংকও বলেছেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। এখানকার অর্থনীতির সব সূচকই উর্ধ্বমুখী। যখন সাড়ে ৭ কোটি মানুষ ছিল, তখন এখানে খাদ্য ঘাটতি হয়েছে। এখন সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ, অথচ আমরা খাদ্য রপ্তানী করতে শুরু করেছি। যেখানে আগে কোনো রিজার্ভ ছিল না, এখন সেই রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বিএনপি সরকারের আমলে যেখানে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি কখনও ৫.৪ এর বেশি ছিল না, সেখানে এখন তা ৬ ছাড়িয়েছে।
 
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। বাণিজ্য কূটনীতিতেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া চীন, ভারত, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) সব উন্নত রাষ্ট্রেই আমরা ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা পেয়েছি।