বাজেট বাস্তবায়নে দেশ আরো একধাপ এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৫, ২০:৫১
 
 
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী আখ্যায়িত করে বলেছেন, এ বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। আর সুগম করবে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণের পথ।
 
সোমবার সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
 
প্রধানমন্ত্রী বাজেট বাস্তবায়নে বিরোধী দলসহ দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সকলে সহযোগিতা করুন, আমরা এ বাজেটও বাস্তবায়ন করতে পারব।
 
বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ উন্নত হোক এটা অনেকেরই পছন্দ হয় না। বিশ্বমন্দার পাশাপাশি বিএনপি জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও আর হত্যা নাশকতার পরও বর্তমান সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। টানা তিন মাসের জ্বালাও-পোড়াও না হলে জিডিপি ৭ শতাংশের ওপরে নেয়াও সম্ভব হতো।
 
প্রায় দেড় ঘণ্টার দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়ন-সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করেন।
 
জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে, তা এবার ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি বিশাল বাজেট ঘোষণাই তার প্রমাণ। বাজেট দিলেই অনেকে সমালোচনা করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা আজ কেউ-ই অস্বীকার করতে পারছে না। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের রিপোর্টেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক বছরে ১৪ ধাপ এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
 
 
শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্যের হার ২৩ ভাগে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। অতি দরিদ্র্যের হার ৭ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। যার অর্থ দাঁড়ায় দেশে হতদরিদ্র্য নেই বললেই চলে। যারা অতি দারিদ্র্যতার মধ্যে রয়েছে তাদেরকে সরকার থেকে বিনামূল্যে খাদ্যসহ সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
 
 তিনি বলেন, অবৈধভাবে প্রবাস গমন রোধে সরকার থেকে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এরপরও কিছু মানুষ অবৈধভাবে যেতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে যা সত্যিই দুঃখজনক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের গত ৬ বছরে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি, ৫ কোটি মানুষ মধ্যম আয়ে উন্নীত হয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছি। প্রায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উত্পাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছি। রফতানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলার। সরকারের ব্যাপক পদক্ষেপের কারণে দেশে আজ ধনী-গরিবের বৈষম্যও হ্রাস পেয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুত্ সেক্টরে তার সরকারের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগে বিদ্যুতের মারাত্মক সঙ্কট ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৬ বছরে দেশে এখন ৭০ ভাগ মানুষ বিদ্যুত সুবিধা পাচ্ছে। বিদ্যুত উত্পাদনে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ এখন ১৩ হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত উত্পাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। নেপাল-ভুটান-বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চুক্তি হয়েছে, এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে বৃদ্ধি পাবে। ভূটান থেকে জলবিদ্যুত আমদানীরও পরিকল্পনা রয়েছে।
 
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তব। এমনকি ক্রীড়াক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় উন্নতি করেছে। বাংলাদেশ যখন টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা পায় তখন অনেকেই অনেক কথা বলেছিল। এখন আমরা পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছি, ভারতের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজে জিতেছি। খুব ইচ্ছা ছিল মাঠে গিয়ে খেলা দেখবো এবং ট্রফিটা নিজ হাতে টাইগারদের হাতে তুলে দেব। কিন্তু অসুস্থতার কারণে মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে পারিনি, কিন্তু খুব শীঘ্রই টাইগারদের ডেকে সম্মান জানানো হবে।
 
শিক্ষাঙ্গনে সেসনজটের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাঙ্গণে কোন সেসনজট নেই, প্রত্যেক জেলায় বিশ্ববিদ্যলয় গড়ে তোলা হচ্ছে।
 
তিনি বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। সারাদেশে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন চলছে। রাজধানী ঢাকাকে দেখলেই তার প্রমাণ হবে। ঢাকার যানজট নিরসনেও ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, মেট্রোরেল নির্মাণ করা হচ্ছে।
 
প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজরের সমস্যার সমাধানে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) শক্তিশালী করা হয়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। যা সফলভাবেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
 
ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি সম্পাদিত স্থল সীমান্ত চূক্তি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বড় সাফল্যে হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
চারদেশের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান বিশ্বয়নের যুগে কোন একটি দেশ এককভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। আমরা প্রচেষ্টা ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সেই চেষ্টার ফসল হিসেবে সম্প্রতি নেপাল-ভূটান-ভারত-বাংলাদেশ এই চারদেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এতে করে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দ্বার উম্মোচিত হয়েছে। এছাড়া মিয়ানমার-চীন-ভারত-বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। এ লক্ষ্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা চলছে।
 
প্রধানমন্ত্রী দেশের পোল্টি ফার্ম, ক্যান্সার প্রতিষেধক ওষুধ, তৈরি পোশাকসহ সব ধরণের রফতানি পণ্যের ওপর আরোপিত কর এবং শিক্ষাখাতে আরোপিত ভ্যাট হ্রাস ও প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ তুলে ধরলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তা গ্রহণ করেন। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে বিশাল বাজেট দিয়েছি তাতে মাত্র ৫ ভাগ ঘাটতি রয়েছে। বাজেট ৫ ভাগ ঘাটতি কোন ব্যাপার না। আমরা এর আগে উন্নয়ন বাজেটের ৯৫ ভাগ বাস্তবায়ন করেছি।