একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে জটিলতা, ভোগান্তি

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৫, ২২:২৭
 
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীতদের প্রথম মেধা তালিকা রবিবার পৌনে ১ টায় প্রকাশের  পরও ‘স্মার্ট অ্যাডমিশন সিস্টেম’ এর জটিলতা যেন কাটছে না। ফল প্রকাশের পর এখন তালিকা পায়নি কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে বিলম্বিত হচ্ছে ভর্তি প্রক্রিয়া। ফলাফল প্রকাশের পর নতুন করে জটিলতা সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ সোমবার থেকেই বোর্ডে জমা পড়ছে।
 
এদিকে ফল প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পর এখনও তালিকা পায়নি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে বিলম্বিত হচ্ছে ভর্তি প্রক্রিয়া। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা সশরীরে বোর্ডে এসে লিখিত অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছেন।
 
সোমবার বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিতে আসেন মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাজমা পারভিন ও দিলরুবা নামের দুইজন সহকারী অধ্যাপক। তারা জানান, এবার অনলাইনে ১ হাজার ২শ’ জন শিক্ষার্থী প্রথম পছন্দ হিসেবে তাদের কলেজে আবেদন করেছে। কলেজে তিন বিভাগ মিলে আসন রয়েছে ৫১০। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মেধা তালিকা আসলেও মানবিক বিভাগে কোনো শিক্ষার্থীর মেধা তালিকা আসেনি।
 
এদিকে মেধা তালিকায় নাম নেই রাজধানীর অন্যতম মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। মেধা তালিকায় নাম না থাকলেও তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি উত্তীর্ণদের এই কলেজে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তার স্কুল থেকে পাস করা বেশ কয়েকজন ছাত্রীর নাম বোর্ডের মেধা তালিকায় আসেনি। বোর্ডের মেধা তালিকায় তাদের নাম আসুক আর নাই আসুক, আমরা তাদের ভর্তি করাব।  কারণ ১০ বছর ধরে তারা এখানে পড়াশোনা করছে।
 
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজেও বেলা ২টা পর্যন্ত কোনো তালিকা পাননি তারা। তালিকা না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা যেসব শিক্ষার্থী মোবাইলে এসএমএস পেয়েছে, আমরা শুধু তাদের ভর্তি করেছি। অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেসব শিক্ষার্থী আইডিয়ালে চান্স পেয়েছে, আমরা তাদের ভর্তি করাতে পারছি না।
সোমবার সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ভিড় করে।
 
সোমবার প্রথম দফায় ভর্তির জন্য ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৩৭৪ জন মনোনীত করা হয়। ২৯ ও ৩০ জুন এবং ১ ও ২ জুলাই শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তি হতে পারবে। www.xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইটে রোল নম্বর দিয়ে সার্চ দিয়েই ফল জানতে পারছেন শিক্ষার্থীরা। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনীতদের তালিকা ডাউনলোড করতে পারবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, শিক্ষাবোর্ড মনোনীত তালিকা ধরেই সব কলেজকে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। এই নিয়মের বাইরে এবার শিক্ষার্থী ভর্তির কোনো সুযোগ নেই।