রাজধানীতে নিজ বাড়িতে মুদি দোকানি খুন

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৫, ০০:৪১

রাজধানীর রায়েরবাগ কদমতলী এলাকায় আবু জাফর (৪২) নামে এক মুদি দোকানিকে তার বাড়িতে ঢুকে গলা কেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। সোমবার ভোরে বাড়ির সিঁড়িতে গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সোমবার সকাল ৮ টার দিকে চিকিত্সকরা জাফরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনাকে ‘রহস্যজনক’ উল্লেখ করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী, ছেলেসহ তিনজনকে আটক করেছে।

 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের  বলেন, রায়েরবাগ মিরাজনগরে বি ব্লকে সাততলা বাড়ির তৃতীয় তলায় নিজ বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তার বাবা জাফর। বাসার সামনে ‘নুসরাত জেনারেল স্টোর’ নামে তার একটি মুদি দোকান রয়েছে। ভোরে ভাড়াটিয়ারা তার বাবাকে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাদের খবর দেন। তখন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সকালে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কেন বা কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তার কারণ জানাতে পারেননি তিনি।
 
নিহতের বড় ভাই সিদ্দিকুর রহমান জানান, জাফর দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুর ছিলেন। তার দুই ছেলে, এক মেয়ে। তিন-চার বছর আগে দেশে এসে বাসার কাছে একটি মুদি দোকান দেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন পরই সেটি ভাড়া দিয়ে দেন। তিনি আরো জানান, ঐ এলাকার হালিমা বেগম নামে এক নারীকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন জাফর। বিষয়টি জানাজানি হলে জাফরের স্বজনরা হালিমাকে তালাক দিতে বাধ্য করে। কিন্তু এরপরও হালিমার সঙ্গে বিভিন্ন সময় জাফর, তার অন্য স্ত্রী নূরজাহান আক্তার ও তার সন্তানদের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পুলিশ তদন্ত করলেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য বেরিয়ে আসবে।
 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, নিহতের গলা কাটা ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রাতে জাফর বাসায় ছিলেন না। ভোরের দিকে বাসার দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, মা ও ছেলের কথায় অসংলগ্নতা রয়েছে। রাতে জাফর দোকানেই ছিলেন, নাকি অন্য কোথাও ছিলেন সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না।
 

কদমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরশেদুল হক দাবি করেন, তারা প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছেন যে, এ ঘটনায় নিহত জাফরের স্ত্রী ও সন্তানরা জড়িত। তারা বাসায় জাফরকে হত্যার পর নিচে ফেলে রাখতে পারে। পরে হাসপাতালে নিয়ে জাফর মারা যাওয়ার পর তারা নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে। জাফরের স্ত্রী, ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।