২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে ভর্তির প্রথম মেধা তালিকার প্রক্রিয়া শেষে দ্বিতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করবে বোর্ড। এর পর রিলিজ স্লিপেরও সুযোগ থাকবে। আবার যারা এখনও অনলাইনে আবেদন করেনি তারাও ভর্তির সুযোগ পাবে। তবে সব ক্ষেত্রেই শূন্য আসন থাকা সাপেক্ষে । আর আবেদন করতে হবে অনলাইনে।
২ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফরম পূরণ করে শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ফি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি হতে হবে । সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের অবশ্যই অনলাইনে নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইনে নিশ্চিতের ফলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী ও খালি আসন সংখ্যা পাওয়া যাবে।
যে সকল শিক্ষার্থী পছন্দের ঊর্ধ্বক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন (মাইগ্রেশন) করতে ইচ্ছুক তাদেরকেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে এবং ভর্তির পর ৪ জুলাইয়ের মধ্যে অনলাইনে নিজ আবেদন আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে শিক্ষার্থী নিজেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য সম্মতি/অপশন প্রদান করবে।
আসন খালি থাকার হিসাব নিয়ে দ্বিতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে ৬ জুলাই এবং দ্বিতীয় মেধা তালিকা এবং মাইগ্রেশন প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তির তারিখ ৭ জুলাই । বিলম্ব ফিসহ ভর্তি হওয়া যাবে ৮ জুলাই। দ্বিতীয় মেধা তালিকা এবং মাইগ্রেশন প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি শেষ হলে শূন্য আসনের তালিকা পাওয়া যাবে।
প্রথম ও দ্বিতীয় মেধা তালিকার যেসব শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েও কোন প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ে ভর্তি হবে না বা কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়নি, তাদের রিলিজ স্লিপধারী হিসাবে গণ্য করা হবে। এই সব শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খালি আসনের বিপরীতে অনলাইনে সর্বোচ্চ ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপশন দিয়ে ৯ ও ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এ জন্য কোন ফি প্রদান করতে হবে না।
রিলিজ স্লিপধারীদের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১১ জুলাই এবং বিলম্ব ফিসহ ১২ জুলাই তাদের ভর্তি হতে হবে। নতুন আবেদনকারী বা যেসব শিক্ষার্থী পূর্বে অনলাইনে আবেদন করেনি তাদেরকেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শূন্য আসন দেখে ১৩ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এদের ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ জুলাই। নতুন আবেদনকারীদের ভর্তি তারিখ ২৫ ও ২৬ জুলাই।
জটিলতা, ভোগান্তি : একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীতদের প্রথম মেধা তালিকা রবিবার প্রকাশের পরও ‘স্মার্ট অ্যাডমিশন সিস্টেম’ এর জটিলতা কাটছেই না। ফল প্রকাশের পর এখনও তালিকা পায়নি কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে বিলম্বিত হচ্ছে ভর্তি প্রক্রিয়া। ফলাফল প্রকাশের পর নতুন করে জটিলতা সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ সোমবার থেকেই বোর্ডে জমা পড়ছে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা সশরীরে বোর্ডে এসে লিখিত অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিতে যান মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাজমা পারভিন ও দিলরুবা নামের দুইজন সহকারী অধ্যাপক।
এ সময় তারা জানান, এবার অনলাইনে ১২শ’ জন শিক্ষার্থী প্রথম পছন্দ হিসেবে তাদের কলেজে আবেদন করেছে। তাদের কলেজে তিন বিভাগ মিলে আসন রয়েছে ৫১০টি। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মেধা তালিকা এলেও মানবিক বিভাগে কোনো শিক্ষার্থীর মেধা তালিকা আসেনি।
এদিকে মেধা তালিকায় নাম নেই রাজধানীর অন্যতম মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের। নাম না থাকলেও তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি উত্তীর্ণদের এই কলেজে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তার স্কুল থেকে পাস করা বেশ কয়েকজন ছাত্রীর নাম বোর্ডের মেধা তালিকায় আসেনি। তালিকায় তাদের নাম আসুক আর নাই আসুক, আমরা তাদের ভর্তি করাব। কারণ ১০ বছর ধরে তারা এখানে পড়াশোনা করছে।
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজও গতকাল বেলা ২টা পর্যন্ত কোনো তালিকা পায়নি। তালিকা না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো যাচ্ছে না। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা যেসব শিক্ষার্থী মোবাইলে এসএমএস পেয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি শুধু তাদের ভর্তি করাচ্ছে। অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেসব শিক্ষার্থী আইডিয়ালে সুযোগ পেয়েছে, তাদের ভর্তি করাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ভিড় করে। গতকাল প্রথম দফায় ভর্তির জন্য ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৩৭৪ জনকে মনোনীত করা হয়েছে। ২৯ ও ৩০ জুন এবং ১ ও ২ জুলাই শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তি হতে পারবে। www.xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইটে রোল নম্বর দিয়ে সার্চ দিলেই ফল জানতে পারছে শিক্ষার্থীরা। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনীতদের তালিকা ডাউনলোড করতে পারবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, শিক্ষাবোর্ড মনোনীত তালিকা ধরেই সব কলেজকে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। এই নিয়মের বাইরে এবার শিক্ষার্থী ভর্তির কোনো সুযোগ নেই।