নায়করাজ’কে দেখতে গিয়ে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৫, ০৩:৫৬

গত দু’দিন ধরেই সারাদেশে উত্কণ্ঠা! ফেসবুক আর অনলাইন মিডিয়ায় গুজবের ঝড়। সবই এদেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ কিংবদন্তী নায়করাজ রাজ্জাককে ঘিরে। স্বাভাবিকভাবেই, নায়ক রাজের এই অসুস্থতার খবরে বিচলিত অনেকেই।

 
এ দেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস সৃষ্টির সাথে জড়িত আছেন আমাদের কিংবদন্তী অভিনেতা নায়ক রাজ রাজ্জাক। শুধু এপার বাংলায় নয়, ওপার বাংলাতেও তার জনপ্রিয়তার কোনো কমতি নেই। বাংলা চলচ্চিত্রের একজন অভিভাবক তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছেন এই মানুষটি। তাই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো হয় না অনেকদিন। অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো আর চলচ্চিত্রে ফিরে পাওয়া যাবে না তাদের চলচ্চিত্রের এই জীবন্ত কিংবদন্তীকে। তবে রাজ্জাক তার মন্তব্যে প্রতিবারই অভিনয়ে ফেরার কথা বলেছেন। বলতেন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর মতো সুস্থ এখনও আছেন তিনি। কিন্তু বয়সের ভার তাকে খানিকটা পেছনে টান দিতো। মাঝে শারীরিক অবস্থা গুরুতর খারাপ হয়ে যাওয়ায় গত ২৬ জুন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় রাজ্জাককে। তবে এখন তার শারীরক অবস্থা ভালোই আছে। তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে উন্নত পরিচর্যার জন্য। গতকাল থেকে এখন অনেকটা সুস্থ আছেন তিনি। হাসপাতালে তার সাথে সার্বক্ষণিক আছেন তার দুই সন্তান ও আমাদের চলচ্চিত্র জগতে আরও দু’জন নক্ষত্র বাপ্পারাজ ও সম্রাট।
 
এছাড়া দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনের কাছের অনেকেই দেখতে গিয়েছিলেন নিজের প্রিয় মানুষটিকে একবার দেখতে। তার শারীরিক অবস্থা নিজ চোখে দেখেই শান্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ মুঠোফোনে খোঁজ নিয়েছেন তার।
 
অরুণা বিশ্বাস রাজ্জাক পরিবারের অন্যতম কাছের একজন মানুষ। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই অসংখ্যবার ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন নিজের গুরুর অবস্থার। নায়ক রাজ রাজ্জাকের এখনকার অবস্থা নিয়ে অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘আমি সম্রাটের সাথে সবসময় যোগাযোগ রাখছি। এখন রাজ্জাক চাচা ভালো আছেন। সন্ধার পর থেকে তিনি অনেকটাই সুস্থ এখন। আইসিইউর বাইরে সবাইকে দেখছেন। প্রথম দিকে যতটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম তেমন কোনো খারাপ অবস্থা না। ডাক্তার বলছেন এখন ভয়ের কিছু নেই। কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যাবে।’
 
নায়ক রাজকে দেখতে হাসপাতালে যান চিত্রনায়িকা চম্পা। তাকে দেখে কেঁদে ফেললেন নায়ক রাজ। কথা বলার মতো কোনো অবস্থায় ছিলেন না রাজ্জাক। কাগজে লিখে তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন চম্পাকে। চম্পা বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্রের অভিভাবক এই মানুষটি। আমাকে দেখে যখন তিনি কেঁদে দিলেন আমি নিজেও চোখের পানি রাখতে পারলাম না। কাগজে আমারা কাছে জানতে চাইলেন ভালো আছি কি-না। আমি হ্যাঁ বললাম। তার জন্য দোয়া চাইতে বললেন। রাজ্জাক চাচা এখন ভালো আছেন। খবরটি শুনে নিজেকে হালকা লাগছে। দোয়া করি সে যেন আরও বহুবছর আমাদের মাঝে থাকেন।’
 
পথচলার অনেকগুলো বছর রাজ্জাককে দেখেছেন পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার। অসুস্থতার খবর শোনার পরই প্রিয় মানুষটির খবর নেয়ার জন্য বাপ্পারাজকে ফোন করেন তিনি। গুলজার বলেন, ‘বাপ্পারাজের সাথে কথা হয়েছে। রাজ্জাক ভাই এখন ভালো আছেন। আমি আজ (গতকাল) ইফতারির পর দেখতে যাবো। আমি যখন ফোন দেই রাজ্জাক ভাই তখন ঘুমাচ্ছিলেন। তবে এখন চিন্তা মুক্ত অবস্থায় আছেন তিনি।’
 

সহযাত্রী আরও একজন পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। শুটিংয়ের জন্য বাইরে থাকায় রাজ্জাককে দেখতে যাওয়া হয়নি তার। বলছিলেন আক্ষেপের কথা। তবে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখছেন তিনি। সোহান বলেন, ‘অনেকেই আমার কাছে অবস্থা জানতে ফোন করছেন। কিন্তু আমি এখনও যেতে পারিনি। তবে আমি প্রতি মুহূর্তের খবর রাখছি। বাপ্পারাজ ও সম্রাটের সাথে কথা হচ্ছে। রাতে তো একটি গুজব ছড়ানো হলো রাজ্জাক ভাই মারা গেছেন। আমি তো অবাক। সাথে সাথে সম্রাটকে ফোন দিয়ে খবর মিথ্যা নিশ্চিত হয়ে শান্ত হলাম। এখন তিনি ভালো আছেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’ এদিকে প্রায় ২ ঘণ্টা পরপর হাসপাতাল ও রাজ্জাকের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং দেয়া হচ্ছে। সম্রাট ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা পুরো পরিবার কয়েকদিন নির্ঘুম। তবে এখন বাবার অবস্থা অনেক ভালো। দু-একদিনের ভেতরেই কেবিনে নিয়ে আসতে পারবো বলেছেন ডাক্তাররা। এছাড়া বাইরে যেন কোনো ধরনের গুজব না রটে এ কারণে সবসময় আমি আমার ফোন খোলা রাখছি। রিসিভ করছি। শুধু একটাই অনুরোধ, বাবার এই অসুস্থতা নিয়ে কেউ অযথা গুজব রটাবেন না। কারণ দেশের বাইরে আমাদের পরিবারেরও অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। তারা এই সব খবরে খুবই বিমর্ষ হয়ে পড়েন। আমাদের কথা বিবেচনা করেও অন্তত সেই কাজটি করবেন না।’