শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের ১৬০ কোটি ইউরোর কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলো গ্রিস। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর চারটায় শেষ হওয়া সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় গ্রিস এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ-খেলাপি। উন্নত বিশ্বের কোনো দেশের এমন ঋণখেলাপী হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
একই সাথে আন্তর্জাতিক উদ্ধার প্যাকেজের চুক্তির মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে হাজার হাজার কোটি ইউরোর দেনায় ডুবে থাকা গ্রিসের জন্য এখন নতুন করে কোথাও থেকে ঋণ পাওয়া সহজ হবে না।
IMG1
এর কয়েক ঘণ্টা আগে অবশ্য আন্তর্জাতিক উদ্ধার প্যাকেজের মেয়াদ বাড়ানোর একটি আবেদন জানিয়েছিল গ্রিস। কিন্তু ইউরো জোনের মন্ত্রীরা সেই আবেদনে সাড়া দেননি।
২০১০ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আইএমএফ থেকে দুটি বেইল আউটে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ইউরো নেয় গ্রিস। এই অর্থে চলতে থাকে দেশটি, যদিও তার জন্য নাগরিকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ সময়ে পেনশন, বেতন ও সরকারি সেবায় কাটছাঁট হয় গ্রিসে। ঋণখেলাপি হওয়ায় গ্রিস ইউরোজোন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে এলো, যাতে ইইউর একক মুদ্রা প্রকল্প ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরির ঝুঁকি দেখা দিল।
IMG0
ইউরোজোনের সঙ্গে টানাপোড়েনে এরইমধ্যে সংকট ঘনীভূত হয়েছে গ্রিসে। সপ্তাহজুড়ে ব্যাংকগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার, পাশাপাশি এটিএম বুথ থেকে দিনে ৬০ ইউরোর বেশি না তোলার বিধান জারি করা হয়েছে। সার্বিক অনিশ্চয়তার মুখে গ্রিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাংক থেকে অর্থ তোলার পাশাপাশি সুপারমার্কেটগুলোতে লম্বা লাইন দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে মজুদ করার চেষ্টা করছে সাধারণ মানুষ।
খবর বিবিসির।
