'রনির গুলিতেই ইস্কাটনের জোড়া খুন'

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৫, ২০:৩২
 
মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির পিস্তল থেকে ছোড়া গুলিতেই রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
 
বুধবার দুপুরে মিন্টো রোডের ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, বস্তুগত তথ্য ও পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দী অনুযায়ী এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, বখতিয়ার আলম রনির পিস্তলের গুলিতেই নিউ ইস্কাটনে দুজন নিহত হয়।
 
রনি ডিবি পুলিশের কাছে গুলি করার বিষয়টি স্বীকার করলেও ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী দিতে রাজি হয়নি। তিনি আরও বলেন, সকল মামলায় ১৬৪ ধারার প্রয়োজন হয় না। মামলাটি ‘ওয়েল ডিটেকটেড’। আদালতে মামলাটি প্রমাণ করতে কোনো অসুবিধা হবে না। কারণ ব্যালিস্টিক রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শী জবানবন্দিসহ পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে।
 
ডিবি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, রনি চার দফায় ১৪ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। রনি যদি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে চায়, সেক্ষেত্রে তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে।
 
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু সেটি রনির পিস্তল, এটা অন্য কারো কাছে ছিল না। ঐ দিন তিনি ফাঁকা গুলি ছুড়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তবে আমাদের তদন্তে প্রমাণ হয়েছে, রনির ছোড়া গুলিতেই ইস্কাটনে দুই জন নিহত হয়েছেন।
 
গত ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে ২টার দিকে নিউ ইস্কাটনে একটি কালো রঙের প্রাডো গাড়ি থেকে ছোড়া এলোপাথাড়ি গুলিতে দৈনিক জনকণ্ঠের অটোরিকশা চালক ইয়াকুব আলী ও রিকশা চালক আবদুল হাকিম নিহত হন।
 
এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৫ এপ্রিল রাতে অজ্ঞাত আসামিদের নামে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্থানান্তর করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রথমে রনির গাড়ি চালক ইমরান ফকিরকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ধানমন্ডির ৪ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বর বাড়ির সি/৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে রনিকে গ্রেফতার করে।