'মানুষ পুড়িয়ে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারবে না'

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৫, ২৩:৪৬
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খুন, সম্পদ ধ্বংস, মানুষকে পুড়িয়ে মারা কোন আন্দোলন নয়, রাজনীতিও নয়। তাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হতে হবে।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সম্মানে আঘাত করে কেউ কিছু বললে আমার সহ্য হয় না। আর হত্যার রাজনীতি যারা করতে চায়, তাদের আর এসব করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, মানুষ পুড়িয়ে কেউ কোনো দিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
 
জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, চোরাচালান ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যার অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
 
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিরপেক্ষ ও গঠনমূলকভাবে সমালোচনা করুন। আপনাদের কাছে নিরপেক্ষতা চাই, অন্য কিছু চাই না।
 
সাংবাদিকদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ৮ম ওয়েজ বোর্ড দিয়েছি, আগামীতে ৯ম ওয়েজ বোর্ড যেন হয় সে বিষয়টি দেখবো। টেলিভিশনে যারা কর্মরত রয়েছেন, তাদের বিষয়টিও দেখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। প্রত্যেক সাংবাদিক ও টেলিভিশন, ৩৫৬টি দৈনিকসহ মোটসহ সাড়ে সাতশ’ পত্রিকা। আমি অনুরোধ করবো- প্রত্যেক মালিক এক টাকা করে হলেও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে জমা দিন। কিছু অর্থ ছিট মানি হিসেবে জমা দিন। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী দিন। সবাই মিলে দিলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
 
সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আবাসিক ব্যবস্থার জন্য প্লট দিয়েছিলাম। জানিনা প্লট মালিকরা বিক্রি করে দিয়েছেন কিনা। এভাবে প্লট না দিয়ে সব প্লট এক জায়গায় নিয়ে এসে ফ্ল্যাট করে দিলে ভাল হতো। বহু সাংবাদিকের থাকার ব্যবস্থা হতো। ভবিষ্যতে সেই ব্যবস্থা যেন হয়, সে বিষয়টি দেখবো।
 
শেখ হাসিনা বলেন, প্রেস কাউন্সিল শক্তিশালী করার চিন্তাভাবনা করছি। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।
 
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেসক্লাবকে আন্তর্জাতিক মানের প্রেসক্লাবে উন্নীত করতে সহযোগিতার আশ্বাস দিলে শত শত সাংবাদিক হাততালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
অনালইন গণমাধ্যমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দেশের সংবাদমাধ্যম আরও শক্তিশালী হোক। আমরা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। তবে কোনো কিছু করতে গেলে নীতিমালা প্রয়োজন। শৃঙ্খলার জন্যই নীতিমালা। জাতীয় প্রেসক্লাবকে আধুনিকায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এই প্রেসক্লাব যেন আধুনিক, সুন্দর ও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সে জন্য বহুতল ভবন করুন, প্রতিষ্ঠা করুন। যে সহযোগিতা লাগে আমরা করবো।
 
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব আবদুল জলিল ভুইয়া, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী।
 
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কুদ্দুস আফ্রাদ। ইফতার মাহফিল শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী খোলামেলা কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ইফতার মাহফিলে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, তথ্য সচিব মতুর্জা আহমেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।