ঈদের পর আল কায়েদার নাশকতার পরিকল্পনা ছিল

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৫, ০০:০০
 
বিপুল পরিমান বিস্ফোরক, ধারালো অস্ত্র, প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা ও জিহাদী বইপত্র সহ জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) এর ১২ জঙ্গি নেতাকে গ্রেফতার করেছে। এই সংগঠনটি ঈদের পরে বাংলাদেশে বড় ধরনের নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। বগুড়ার একটি মাদ্রাসায় গড়ে তোলা হয়েছে প্রশিক্ষণ শিবির।
 
সংগঠনটির আদালতে নেয়ার পথে অথবা কারাগার স্থানান্তরের পথে হামলা চালিয়ে কারাবন্দী থাকা হুজি নেতাকর্মীদের ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিপুর কারাগারসহ অন্যান্য কারাগারে বন্দী শীর্ষ জঙ্গি নেতারা জেল ভেঙ্গে পালানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল।
 
বুধবার রাজধানীর তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়ে এই সংগঠনের বাংলাদেশী প্রধান সমন্বয়ক মুফতি মঈনুল ইসলাম ও উপদেষ্টা মাওলানা জাফর আমিনসহ এই ১২ জনকে গ্রেফতার করে।
 
 বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মাহমুদ খান এসব তথ্য জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল জিয়াউল আহসান, গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
 
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে আড়াই লিটার সালফিউরিক এসিড, ১ লিটার এসিটন, ১ কেজি গন্ধক, ১ কেজি সালফার, ৫ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ৫ কেজি সোডিয়াম-বাই কার্বনেট, ৫৫০টি মার্বেল, ৪০০ গ্রাম পটাশিয়াম ক্লোরেট, ৪৯ হাজার ৪৯৪ টাকা, ২ লিটার গ্লিসারিন, ৫টি কাঁচের জার, ১৫টি বিস্ফোরক ডিভাইসহ সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। এসব উপকরণ দিয়ে শক্তিশালী বোমা তৈরি করা সম্ভব। এ ধরনের বোমা বিস্ফোরনের ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।
 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—একিউআইএসের বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী মাওলানা মাইনুল ইসলাম ওরফে মাহিম ওরফে নানা ওরফে বদিউল, উপদেষ্টা মুফতি জাফর আমিন ওরফে সালমান, সক্রিয় সদস্য সাইদুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন, আবদুর রহমান বেপারী, আল আমিন ওরফে ইব্রাহিম, মোজাহিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, হাবিব উল্লাহ, শহিদুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেন। এদের অধিকাংশই আগে জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ও হুজির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে র্যাব জানিয়েছে।
 
সাংবাদিক সম্মেলনে কমান্ডার মাহমুদ খান বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মাইনুল ইসলাম একিউআইএসের বাংলাদেশ শাখার প্রধান সমন্বয়ক এবং জাফর আমিন উপদেষ্টা। এটি ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার শাখা যাকে (একিউআইএস) বলা হচ্ছে। এ ছাড়া গ্রেফতারকৃত অন্য ১০ জন সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য। ঈদুল ফিতরের পর রাজধানীতে হামলার পরিকল্পনা ছিল এই সংগঠনের। এ ছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি মাইনুদ্দিনসহ বেশ কয়েকজনকে ছাড়িয়ে আনতে কারাগার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল তাদের। পরে সংগঠনটি একসঙ্গে সারা দেশে হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
 
 
র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফ. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, বেশকিছু দিন ধরেই একিউআইএসের কর্মকা্ল নিয়ে গোপনে অনুসন্ধান চলছিল। মূলত জেএমবি ও হুজির পুরাতন নেতা বা সদস্যরা মিলেই একিউআইএসকে সংগঠিত করা চেষ্টা করেছিল। তাদের মূল টার্গেট ছিল—মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি এলাকা নিয়ে ‘গাজা-ই-হিন্দ’ নামে ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করা।
 
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, র‌্যাব-৪ ব্যাটালিয়নের একটি দল বুধবার সকালে রাজধানীর সদরঘাট থেকে একিউআইএসের বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী মাওলানা মাইনুল ইসলামকে, উপদেষ্টা মুফতি জাফরকে, সক্রিয় সদস্য সাইদুল, মোশাররফ ও আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করে।
 
পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন বুধবার সন্ধ্যায় একিউআইএসের সক্রিয় সদস্য আল আমিন, মোজাহিদুল, আশরাফুল, রবিউল ও হাবিবকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যের সূত্র ধরে সব শেষে মিরপুর-১ এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৮ নম্বর বর্ধনবাড়ির ভাড়া বাসা থেকে শহিদুল ও আলতাফকে গ্রেফতার করা হয়।
 
র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে সালফার অ্যাসিড, গন্ধক, সালফিউরিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য, বিস্ফোরক ডিভাইস, বোমা  তৈরির সরঞ্জাম, বিভিন্ন ধরনের ছোট অস্ত্র, জিহাদি বই, মোবাইল ফোন ও ব্যাংকের চেক উদ্ধার করা হয়েছে।