গত অর্থবছরে ১৫.৩১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৫, ০২:১৬

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছর (২০১৪-১৫) প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন বা এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর আরো কোন অর্থবছরে এ পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর আগে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ২০১২-১৩ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৪৪৬ কোটি ১১ লাখ ডলার।

 
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, একক মাস হিসাবে গেল অর্থবছরের শেষ মাস জুনে প্রবাসীরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪৩ কোটি ১৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুন মাসের চেয়ে সাড়ে ১৪ কোটি ডলার বেশি।
 
এবার প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড হওয়ার পূর্বাভাস আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। গেল অর্থবছরের প্রতি মাসে প্রবাসীরা গড়ে ১৩২ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা অর্থ পাঠানোর কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে এ নতুন রেকর্ড হয়েছে। আর রেমিট্যান্সের কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ  ২৫ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। একক মাস হিসাবে জুলাইতে রেকর্ড ১৪৯ কোটি ২৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া আগস্টে ১১৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ১৩৪ কোটি ৪২ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১০১ কোটি ৮০ লাখ ডলার, নভেম্বরে ১১৮ কোটি ২৯ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ১২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ১২৪ কোটি ৩২ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১১৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, মার্চে ১৩৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, এপ্রিলে ১২৯ কোটি ৭৯ লাখ ডলার ও মে’তে ১৩২ কোটি ১৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রবাসী আয় এক হাজার ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। ২০১০-১১ অর্থবছরে এক হাজার ১০০ কোটি ডলার, ২০১১-১২ অর্থবছরের এক হাজার ২০০ কোটি ডলার ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ছাড়ায়। তবে দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় পর গত অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ব্যতিক্রম বা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রবাসী আয় আসে এক হাজার ৪২৩ কোটি ডলার। যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের চেয়ে ২৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার বা এক দশমিক ৬০ শতাংশ কম।
 

এদিকে, জুন মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে। যার পরিমাণ ৯৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৪ কোটি ৫১ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ৪ ব্যাংকের মাধ্যমে এক কোটি ৬২ লাখ ডলার ও বিদেশী নয় ব্যাংকের মাধ্যমে এক কোটি ৫৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া জুন মাসে সবচেয়ে একক ব্যাংক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৩৫ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মাধ্যমে।