ভিড় জমেছে দেশীয় বুটিক হাউসগুলোতে। শুধু সালোয়ার কামিজ কিংবা শাড়ি কিনতে নয়; ফতুয়া, পাঞ্জাবি, গহনা, হাতব্যাগ, পার্স সবই পাওয়া যাচ্ছে বুটিক হাউসগুলোতে। এসব পণ্যসামগ্রী দেশীয় সুতা, কাপড়, রং আর বাড়তি অলঙ্করণ দিয়ে তৈরি। নতুন করে শুরু হয়েছে অনেক বুটিক হাউসের আউটলেট। এসব বুটিক হাউসে জমে উঠেছে ঈদের জমজমাট কেনাকাটা।
নারীদের চাহিদা আর নিত্য নতুন ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখে দেশীয় বুটিক হাউসগুলোর মূল আকর্ষণ এখন সালোয়ার কামিজ। সময়ের বিবর্তনে এই পোশাকটিই ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনে আর্বিভাব হলেও; পোশাকটির আদি নামের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। সালোয়ার কামিজ নামেই এর খ্যাতি বিশ্বজোড়া।
সালোয়ার কামিজ কেনার জন্য ক্রেতাদের দৃষ্টি থাকে বুটিক হাউসগুলোর দিকে। বুটিক হাউসগুলো সময়, উত্সব ও ঋতুকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক তৈরি করে বলেই ক্রেতাদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। এবার ট্রেন্ড লং এবং সেমি লং কমিজের। এসব কামিজে ইয়োগ, ভরাট এপ্লিক, কাঁথা স্টিসের কাজের ইয়োগ সেট করা, হাতে প্রিন্ট করা, ব্লক, বাটিক করা ডিজাইন রয়েছে। কামিজে পরিচ্ছন্ন সামঞ্জস্যপূর্ণ এমব্রয়ডারি কামিজগুলোকে আরো রুচিশীল করেছে।
এবারের ঈদে সালোয়ার কামিজের কালেকশনে রঙ, ডিজাইন, কাটিং প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তাঁতের সুতি, সিল্ক, এন্ডি সুতি, এন্ডি সিল্ক, হাফসিল্ক, মসলিন কাপড় বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। এরপরেই রয়েছে সিল্ক, ভয়েল, মসলিন, ডুপিয়ান, ডবি ফেব্রিক্স। লাল, মেরুন, সাদা রঙের ব্যবহার বেশি হলেও বেগুনি, কমলা, বাদামি, ছাই, মেজেন্টা, কালোসহ বিভিন্ন রঙের শেড ব্যবহার করা হয়েছে এবারের ঈদ আয়োজনে। প্রতিবারের মতো এবারও তাঁত বুনন ডিজাইনের প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়া হয়েছে। কমিজের মধ্যে লং কামিজ ও সেমি লং কামিজটাই বেশি চলছে। এর মধ্যে ফুল, থ্রি-কোয়ার্টার, স্লিপলেস হাতার কামিজও বাজারে এনেছে বুটিক হাউসগুলো।
লালমাটিয়া থেকে আসা মিতুন ও সুচি অভিযোগ করে বলেন, বুটিকসের ড্রেসগুলো সবই সুন্দর কিন্তু দাম অনেক বেশি। আমাদের দেশীয় পণ্যসামগ্রীর পোশাকের দামগুলো একটু কম হলে সবার জন্যে ভালো হলো। মিথুন বলেন, আমি কয়েকটা ড্রেস পছন্দ করেছি কিন্তু দাম, ৬হাজার থেকে ৯ হাজার টাকার মধ্যে কিন্তু আমার বাজেট ৩হাজার টাকা। শিক্ষার্থীদের জন্যে কিছু ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা থাকলেও ভালো হতো।
এ বছর গরমে ঈদ হওয়ার কারণে সুতি, খাদি, এন্ডি কটন, এন্ডি সিল্ক কাপড়ে হালকা হাতের কাজ বা এম্ব্রয়ডারি কাজে প্রাধান্য দিয়েছেন বেশি। ডিজাইনের পাশাপাশি ফ্যাশন হাউসগুলো পোশাকে ব্যবহার করেছে উজ্জ্বল রঙ ও উজ্জ্বল রঙের সুতো। সুতি কাপড়ের পরিবর্তে এন্ডি সুতি, এন্ডি সিল্ক কাপড়ের প্রাধান্য বেশি। চুড়িদার পায়জামা ও সালোয়ার দুটোই সমানভাবেই চলছে। গতকাল রাজধানীর আড়ং, নিপুণ, সাদাকালো, প্রবর্তনা, বাংলার মেলা, কে-ক্রাফট, অঞ্জনস, দেশাল, বিবিয়ানা, ওজি, রঙ,নগরদোলা, মেঘ, নিত্য উপহার ইত্যাদি বুটিক হাউসগুলো ঘুরে দেশি কাপড়ের তৈরি মেয়েদের এবারের ঈদের পোশাকের এমন ফ্যাশনই দেখা গেছে। বুটিক হাউসগুলো প্রত্যেকেই নিজস্ব চিন্তাভাবনার প্রকাশ ঘটিয়েছে তাদের ঈদ আয়োজনের পোশাকে। বুটিক হাউসগুলোর এই বৈচিত্র্যময় কালেকশনের প্রতিই ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ।
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়ুয়া মনি, সোমা, উপমা এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। তার সঙ্গে কথা হয় অঞ্জনস বুটিক হাউজের সামনে। তারা বলেন, বেশ কয়েকটা ড্রেস পছন্দ হয়েছে কে-ক্রাফট ও অঞ্জনসে কিন্তু দামে বনছে না। একেকটি থ্রি-পিসের দাম ৬ হাজার ৮ হাজারের উপরে। আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্যে এতো দাম দিয়ে পোশাক কিনা মানায় না তাই কিনতে পারিনি। তবে দেশাল বুটিক হাউজের থ্রি-পিসগুলোর দাম রিজেনেবল। বেছে বেছে দেশাল থেকে আমরা দুটো থ্রি-পিস কিনেছি।
