ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা (আইএস) ইরাক ও সিরিয়ায় প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে। অর্থ জোগাড় করতে এসব সম্পদ দালালদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে তারা। ইউনেস্কো প্রধান ইরিনা বোকোভা বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের আইএসের এই লুটতরাজের কথা জানিয়েছেন।
বোকোভা বলেন, ইরাকের বিশ্বখ্যাত ১০ হাজার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার এক পঞ্চমাংশ এরই মধ্যে লুট করে ফেলেছে আইএস। বাকি স্থাপনাগুলোয় কি হচ্ছে এখনও জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, সিরিয়ার কিছু স্থাপনা এমনভাবে লণ্ডভণ্ড করা হয়েছে যে এখন আর সেগুলোর কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব নেই।
লিবিয়ার স্থাপনাগুলো নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, আইএসের দখলে এখন এমন কিছু এলাকা চলে গেছে, যেগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদে ভরপুর। অ্যাসিরীয় সম্রাটরা এসব এলাকায় তাদের রাজধানী গড়েছিলেন, গ্রিকো-রোমান সভ্যতার উদ্ভব হয়েছিল এবং মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থাপনাগুলো সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল।
সিরিয়ার ঐতিহাসিক পালমিরা নগরীতে আইএস ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এমন খবরের পরই ইউনেস্কো এ কথা জানাল। এর আগে সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, গত সপ্তাহে পালমিরার বিখ্যাত সিংহ মূর্তিটি ধ্বংস করেছে আইএস জঙ্গিরা। উল্লেখ্য, সিংহটি আল-লাত নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত ছিল। আল-লাত তিন মিটার উঁচু ও ওজনে ১৫ টন ছিল।
ওই সিংহ মূর্তিটিকে ইসলাম পূর্ববর্তী যুগে দেবতা হিসেবে মানতো মানুষ। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে মূর্তিটি তৈরি করে পালমিরায় এর মন্দির স্থাপন করা হয়। পালমিরার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর প্রতি এটাকেই সবচেয়ে বড় আঘাত বলে মনে করছেন অনেকে। সূত্র: আল জাজিরা
