পদত্যাগের হুমকি গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৫, ০০:২১

আগামীকাল রবিবার অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন গ্রিস প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। সিপ্রাসের মতো তার সরকারের অর্থমন্ত্রীও ভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। ফলে গণভোটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের নাটকীয়তা।

 
সিপ্রাস বলছেন, গ্রিসে প্রচণ্ড ঝুঁকি বিরাজ করছে। ভোটাররা ঋণদাতাদের বেইআউট পরিকল্পনার পক্ষে অর্থাত্ হ্যাঁ ভোট দিলে সরকারের পতন ঘটতে পারে। অগণিত শর্তের বেড়াজালে ঋণদাতাদের ‘বেইলআউট’ বা ত্রাণ পরিকল্পনা গ্রিসের জন্য অবমাননাকর হবে বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন সিপ্রাস। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত তার সরকারের অর্থমন্ত্রীও।
 
এদিকে, আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্তের ওপর আগামীকালের গণভোট উপলক্ষ্যে  গ্রিসের রাজধানীতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি পক্ষ বড় ধরণের সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। সিপ্রাস ‘না’ ভোটের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে হাজির থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা হুঁশিয়ার করেছেন, ‘না’ ভোট জয়ী হওয়ার অর্থ হল গ্রিসের ইউরোজোন থেকে বেরিয়ে যাওয়া। গ্রিস নতুন করে তহবিল পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির অর্থনীতি ইতিমধ্যে সংকুচিত হয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং এ সময়ে এটিএম বুথ থেকে মাত্র ৬০ ইউরো করে তোলা যাবে।
 

আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে গ্রিসের অচলাবস্থা চলছে। তবে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্তের ওপর গণভোটের ডাক দেয়া হয়। ইতিমধ্যে গণভোটের পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে। সময় যতই গড়াচ্ছে উভয় পক্ষ নিজেদের দিকে ভোটার টানতে তত্পর হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের পোস্টার লাগানো হয়েছে। গণভোট নিয়ে এথনোস পত্রিকা গতকাল শুক্রবার এক জনমত জরিপ চালায়। এতে দেখা যায় ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’র পক্ষে প্রায় সমান সমান ভোটার রয়েছে। ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ ও ‘না’ এর পক্ষে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন আছে বলে জরিপে উঠে আসে। তবে গ্রিসের শীর্ষ আদালত কাউন্সিল অব স্টেট এই গণভোটের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করতে পারে। সিপ্রাস বলেছেন, একটি শক্তিশালী ‘না’ ভোট আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে একটি ভাল চুক্তির পথ ত্বরান্বিত করবে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে ব্যাংক খুলবে। তবে তা স্থিতিশীল হবে না। দেশের জন্য ভালো হবে না। তবে কোন ভয় বা চাপ থেকে নয়, স্বতস্ফুর্তভাবে গ্রিসের জনগণ সিদ্ধান্ত নিলে আমাদের তার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।’ তিনি বলেন,‘আর যদি না ভোট জয়ী হয়, তাহলে আমি নিশ্চিত করে বলছি, চুক্তি হবে।’ তবে ইউরোজোনের নেতারা হুঁশিয়ার করেছেন, ‘না’ ভোট জয়ী হওয়ার অর্থ হল গ্রিসের ইউরোজোন থেকে বেরিয়ে যাওয়া। কিন্তু সিপ্রাস বলেছেন, গ্রিস তা চায় না।