শিরোপা বন্ধ্যাত্ব ঘুচবে মেসিদের?

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৫, ১০:১১
 
লিওনেল মেসির দল ২২ বছরের শিরোপা বন্ধ্যাত্ব ঘুচাবার লক্ষ্য নিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির মুখোমুখি হচ্ছে। তবে সান্তিয়াগোর স্টাদিও ন্যাসিওনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে প্রস্তুত স্বাগতিকরাও। কারণ সবচেয়ে পুরনো এই মহাদেশীয় টুর্নামেন্টটির গত ৯৯ বছরের ইতিহাসে কখনোই শিরোপা জেতা হয়নি তাদেরও। তাই বাংলাদেশ সময় রাত দুটায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি দু’দলের জন্যই শিরোপা খরা ঘুচানোর লড়াই।

 

দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি আজকের ফাইনাল মেসির জন্য ব্যক্তিগত এক চ্যালেঞ্জও বটে। ‘বার্সেলোনার মেসি আর্জেন্টিনার নন’ বরাবরই এই সমালোচনা শুনে আসা আর্জেন্টিনার দলপতির সামনে সুযোগ নিন্দুকের মুখে পাল্টা আঘাত করার। আজ জিততে না পারলে নিশ্চিতভাবেই মেসির বিরুদ্ধে এই সমালোচনা আরো বাড়বে।

 

দিয়েগো ম্যারাডোনার দল সর্বশেষ এই মহাদেশীয় টুর্নামেন্টটির শিরোপা জেতে ১৯৯৩ সালে। মেসির বয়স তখন মাত্র ছয়। এরপর সাতটি কোপা আমেরিকা এবং ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছে আর্জেন্টিনা তার কোনটাই জেতা হয়নি তাদের। এর মধ্যে পাঁচটি টুর্নামেন্টে খেলেছেন মেসিও। তাতেও পাল্টায়নি আর্জেন্টিনার ভাগ্য। ফলে ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে স্বর্ণ পদক জেতানোই বিখ্যাত আকাশী-নীল জার্সি গায়ে মেসির একমাত্র সাফল্য হয়ে আছে।
 
ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনাল ছাড়াও ২০০৪ এবং ’০৭ সালে কোপার ফাইনালে হারতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ২০১১ সালে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত আসরে তারা বিদায় নেয় শেষ আট থেকেই।

 

তবে এবার এই অপেক্ষার শেষ হবে বলে বিশ্বাস জ্যাভিয়ের ম্যাশেরানোর। বার্সেলোনার এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জানালেন জিততে মরিয়া দলের সবাই, ‘আমরা জিততে বদ্ধপরিকর। আমরা এই চ্যাম্পিয়নশিপগুলোর একটি অবশ্যই জিততে চাই। আশা করি শনিবারের ফাইনালেই এটা হতে যাচ্ছে।’

 

আজ জিতলে উরুগুয়ের সবচেয়ে বেশি বার কোপা জেতার রেকর্ডে ভাগ বসাবে আর্জেন্টিনা। এই মুহূর্তে ১৪ শিরোপা নিয়ে উরুগুয়ের ঠিক পেছনেই আছে তারা।
 
পুরো টুর্নামেন্টে খানিকটা নিষ্প্রভ থাকলেও প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে জ্বলে ওঠেন মেসি। প্রতিপক্ষকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করার পথে কোন গোল না পেলেও ছয় গোলের পাঁচটিতেই করেন প্রত্যক্ষ সহযোগিতা। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পান চারবারের বিশ্বসেরা এই খেলোয়াড়।
 
ঐ ম্যাচে গোল পাওয়া এবং আর্জেন্টিনা আক্রমণভাগের অন্যতম সদস্য সার্জিও অ্যাগুয়েরো অবশ্য আজ আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক ম্যাচ আশা করছেন। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে দারুণ এক মৌসুম কাটানো অ্যাগুয়েরো বলেন, ‘উরুগুয়ের পর দ্বিতীয় বড় দলের সামনে আমরা এবং নিশ্চিতভাবেই তারা আমাদের চেপে ধরতে চাইবে। তারা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল এবং আমার বিশ্বাস দারুণ একটা ফাইনাল হতে যাচ্ছে এটা।’
 
এদিকে, ৯৯ বছর আগে উদ্বোধনী আসরে ফাইনাল খেলা চিলি এরপর আরো তিনবার পৌঁছেছে শিরোপার কাছাকাছি। কিন্তু প্রতিবারই তাদের ফিরতে হয়েছে হতাশ হয়ে।
 
নিজেদের দেশে এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো বসলো কোপার আসর। কিন্তু তাতেও তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। বরং গত ছয়বারের চারবারই শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা, ফাইনাল খেলেছে প্রতিবার!
 
এবার সেই ভাগ্য পাল্টাতে বদ্ধপরিকর ক্লদিও ব্রাভোও। স্বাগতিকদের গোলরক্ষক এবং অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা ফাইনাল খেলছি এটাই বোধহয় দেশের অনেক মানুষের কাছে বড় প্রাপ্তি। এখন তাদের সামনে যদি ফাইনাল জিততে পারি তার চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে।’
 
জুভেন্তাসের দুই সতীর্থ আরতুরো ভিদাল এবং মাউরিসিও, আর্সেনাল স্ট্রাইকার অ্যালেক্সিজ সানচেজ, নাপোলি স্ট্রাইকার এদুয়ার্দো ভার্গাস, ইন্টার মিলানের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার গ্যারি মেদেল, পালমেইরাসের প্লে মেকার জর্জ ভালদিভিয়ার সঙ্গে বার্সেলোনার গোলরক্ষক ব্রাভো। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কয়েকজন খেলোয়াড় চিলির বর্তমান দলে। দলের দায়িত্বে আছেন এক আর্জেন্টাইন, জর্জ সাম্পাওলি। তাই শিরোপার স্বপ্ন দেখাটা হয়তো তাদের জন্য মোটেই অসম্ভব কিছু নয়।
 
তাই নির্ভয় ফুটবল খেলার দিকেই নজর ব্রাভোর, ‘আমরা প্রায় কোন টুর্নামেন্টেই ফেভারিট থাকি না এবং এটা আমাদের জন্য সুবিধাই বয়ে আনে। কারণ আমরা সব সময় শক্তি আর উদ্দীপনায় ভরা থাকি। প্রতিপক্ষকে ভয় পাচ্ছি এমন কথা দলের কেউ কখনোই বলেনি। কিন্তু এটাও সত্যি তাদের প্রতি শ্রদ্ধার কোন ঘাটতি নেই আমাদের।’