ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানের ব্যাপারে অগ্রগতির দাবি করা হলেও এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফের দাবি—পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির করার ব্যাপারে তারা এর আগে কখনো এতটা কাছাকাছি হননি। অপর দিকে, ‘অগ্রগতি হচ্ছে’—এটা স্বীকার করেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, ‘এখনো অনেক কাজ করার বাকি রয়েছে।’ খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির লক্ষ্যে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আলোচনা চলছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়ায় ও চীনের পাশাপাশি জার্মানির প্রতিনিধিরা ইরানের সঙ্গে এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে। এর আগে চুক্তিতে পৌঁছাতে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ জুন করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেও চুক্তি না হওয়ায় ৭ জুলাই পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।
আলোচনা চলাকালে শুক্রবার ইউটিউবে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় জারিফ পরমাণু আলোচনায় ‘বলপ্রয়োগ’ এবং ‘চাপ’ বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ইরান চুক্তি করতে রাজি এবং আলোচকরা এর আগে কখনোই একটি দীর্ঘস্থায়ী ফলাফলের এত কাছাকাছি ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘এই চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে চরমপন্থার মতো সাধারণ চ্যালেঞ্জগুলোকে পরিচিত করাতে নতুন পথ খুলে দেবে।’
জারিফ জানান—বৈঠকে চরমপন্থী সহিংসতা মোকবিলায় বৃহত্তর সহযোগিতারও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। অপর দিকে, কেরি সাংবাকিদের বলেন, ‘কিছু কঠিন ইস্যু এখনো সুরাহার বাকি রয়েয়ে, তবে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ইরানের দাবি—তার পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। বিদদ্যুত্ উত্পাদন ও চিকিত্সা খাতের মতো বেসামরিক প্রয়োজনেই এটি করা হচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ— পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার লক্ষ্যেই ওই কর্মসূচি নেয়া হয়। হাসান রুহানি ২০১৩ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ইরানের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছয় পরাশক্তির আলোচনায় নতুন গতির সঞ্চার হয়।
গত এপ্রিলে স্বাক্ষরিত সমঝোতার রূপরেখা অনুযায়ী একটি চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরানের ওপর থেকে পশ্চিমাদের আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়া হবে। এর বদলে তেহরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ রাখতে হবে।
