উইকেট নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৫, ১৯:৫৫
 
একসময় অস্ট্রেলিয়া দলকে নিয়ে এমন সমস্যায় পড়তে হতো সব দলকেই। কী উইকেট বানাবেন তাদের জন্য! ব্যাটিং উইকেট বানালে হেইডেন, গিলক্রিস্ট, পন্টিংরা আছেন। পেস বোলিং উইকেট বানালে ম্যাকগ্রা-গিলেস্পি। আর স্পিন উইকেট বানিয়ে ফেললে শেন ওয়ার্ন!  কী উইকেট বানাবেন?
 
এই সমস্যায় এখন বাংলাদেশ পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে। ব্যাটিং উইকেট বানানোর উপায় নেই—ডি ভিলিয়ার্স, মিলার, ডু প্লেসিসরা আছেন। পেস বোলিংয়ে আরও বিপদ। গতকাল টের পাওয়া গেলো উইকেটে টার্ন থাকলেও অপ্রতিরোধ দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা। আমাদের অস্ত্রেই ফাঙ্গিসো, ডুমিনিরা ঘায়েল করে ফেলল আমাদের।
 
তবে রবিবারের ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা বার্তায় ইঙ্গিতটা পরিষ্কার যে এমন টার্নিং উইকেট তারা চাননি। বেশ কিছুদিন ধরে স্পোর্টিং উইকেটে খেলে অভ্যস্থ হয়ে পড়া বাংলাদেশ টার্নিং উইকেটে খুব ভালো করতে পারবে না, এমন অনুমান তাদের ছিলো। আর সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের সফল স্পিনাররা কেউই বলের খুব ভালো টার্নার নন; তারা মূলত একটু নিচু বাউন্স ও ধীরগতির উইকেটে সাফল্য পেয়ে থাকেন। উইকেটে দারুণ টার্ন থাকলেও, সেটা মাশরাফিদের চাহিদামতো ‘স্লো ও লো’ ছিলো না।
 
উইকেট যে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় সমস্যা ছিলো, সেটা অস্বীকার করলেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও। তিনি পরিষ্কার বললেন, এতো টার্নিং উইকেটের ব্যবহার করার মতো বোলার তাদের নেই, ‘আমাদের বোলারদের বল ততটা তো টার্ন করে না। আমাদের যেটা হয়, বল একটু উচুঁ-নিচু হয়। একটু স্লো হয়। উইকেটে টার্ণ করাতে একটা সমস্যা হয়েছে। আর ওদের বোলাররা ৮ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ৩টা উইকেটও নিয়েছে।  অবশ্যই এখানে একটু সমস্যা হয়েছে। তবে ১৫০ তাড়া করতে গেলে আরেকটু সচেতন হওয়া উচিত। যেটাই হোক না কেন আমরা আরেকটু চেস্টা করতে পারতাম।
পাশাপাশি অনেকদিন ধরে একটু স্পোটিং উইকেটে খেলার পর হঠাৎ টার্নিং উইকেটে মানিয়ে নিতেও কষ্ট জয়েছে বলে বিশ্বাস করেন মাশরাফি, ‘হতে পারে অনেকদিন ধরে ট্রু উইকেটে খেলার অভ্যাস হয়ে গেছে। সেই জায়গা থেকে একটু স্পিন উইকেট হয়েছে। এটা একটা কারন হতে পারে। এই ধরনের উইকেটে আমরাতো সব সময় খেলে অভ্যস্ত। আমাদের আসলে এই জিনিসগুলোতে অভ্যস্ত হতে হবে। ওদের জন্য এমন উইকেটে খেলা আরও কঠিন। ওদের ২-১ ব্যাটসম্যান কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলেছে। আমরা চেষ্টা করলে আমরাও পারব। উইকেট যেমনই হোক আমাদের মানিয়ে নিয়েই খেলতে হবে।