আত্মপ্রকাশের পর থেকেই ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন (আইএস) দিন দিন যেন আরো বেশি বিধ্বংসী হয়ে উঠছে। আইএসের হামলায় এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মূলত ইসলামিক স্টেট প্রতিষ্ঠার জন্য ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের যাত্রা শুরু হলেও তা হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশসহ অনেক দেশের জন্য। আইএস আতঙ্ক থেকে বাদ যায়নি অস্ট্রেলিয়াও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোটের জন্য রীতিমতো মাথা ব্যথার কারণে পরিণত হয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠীটি। টনি অ্যাবোটের কাছে মনে হয়, আধুনিক যুগের ভৌতিক সিনেমার মতো এটাও এগিয়ে আসছে তাদের দিকে, কখন যেন ঝাঁপিয়ে পড়ে আক্রমণ করে। কারণ ইতিমধ্যে ইরাক-সিরিয়ার ভূখণ্ড ছাড়িয়ে আইএস হামলা চালিয়েছে কুয়েত, ফ্রান্স ও তিউনিশিয়ায়। কখন যে অস্ট্রেলিয়া এই হামলার শিকার হয় সেই ভয়েই বিচলিত টনি অ্যাবোট। প্রধানমন্ত্রীর এমন আশঙ্কাই প্রমাণ করে অস্ট্রেলিয়া কতোটা আতঙ্কিত।
পশ্চিমা দেশগুলোর সুরে সুর মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলে আসছেন, আইএসে যোগ দেয়া কিংবা যোগ দিতে ইচ্ছুক বিদেশি যোদ্ধাদের কারণে অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে গোটা দেশ। কিন্তু বাস্তবতা হলো তার দেশে এই সংখ্যা খুবই নগণ্য। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা সংস্থার হিসাব মতে দেড়শ’ থেকে আড়াইশ’ মানুষ আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে দেশত্যাগ করেছে। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, প্রকৃত সংখ্যা অনেক কম হবে। তাদের মতে, এই তালিকায় মাত্র ৫৪ জন থাকতে পারে। অর্থাত্ প্রকৃত সংখ্যা থেকে প্রায় পাঁচগুণ বেশি দেখানো হচ্ছে। পাঁচগুণ বেশি মানুষের আইএসের হয়ে যুদ্ধ করার যে তথ্য পাওয়া গেছে তা প্রকৃত চিত্র উপস্থাপন করে না। অস্ট্রেলিয়ার মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন বেশ আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আইএসের সাথে যুদ্ধ করতে দেশ ছাড়াদের নাগরিকত্বের প্রশ্নেও কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন অ্যাবোট। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এভাবে মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করে কতোটা জনসমর্থন আদায় করতে পারবে অ্যাবোটের সরকার। এই বিষয়টাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কি পারবেন নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে। মানুষের নিরাপত্তার কথা বলে অ্যাবোট যে ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরতে চাইছেন তা-ই কিনা অ্যাবোটের জন্য কাল না হয়ে দাঁড়ায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
