শত বছরের আক্ষেপ ঘুচলো চিলির

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৫, ০১:৫৬
অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান ঘটল চিলির।
 
নিজেদের মাঠ এস্তাদিও ন্যাচিওনালে গত শনিবার রাতে টাইব্রেকারে লিওনেল মেসিদের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রথম কোপা আমেরিকা জিতে প্রায় শত বছরের আক্ষেপ ঘোচালো চিলি। গত ৯৯ বছরে চারবার তারা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের এ প্রতিযোগিতায় ফাইনাল খেললেও শিরোপা ছিল অধরাই। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে হারিয়ে চিলিবাসীরা শুধু দীর্ঘদিনের স্বপ্নই পূরণ করলো না, আন্তর্জাতিক ফুটবলেও দেখা পেল প্রথম কোনো বড় শিরোপার। 
 
চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে অনুষ্ঠিত এ ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি করতে পারেনি দু’দল। অবশেষে স্পট-কিকে স্ট্রাইকার অ্যালেক্সি সানচেজের জয়সূচক গোলটির পরই শিরোপা জয়ের বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে গোটা চিলি শিবির। তাদের আনন্দের বানা ডাকাটাকে সহজ করে দেয় আর্জেন্টিনার গঞ্জালো হিগুয়েনের শটটি বারের উপর দিয়ে চলে যাওয়ার পর এভার বানেগার হাঁকানো বলটি চিলির গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো ফিরিয়ে দিলে।
 
অথচ ২২ বছর ধরেই এই ট্রফিটি তুলে ধরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায় এদিন তারা যেমন ব্যর্থ হন, আবার ১২০ মিনিটের খেলাতেও দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নিজেদের সুনামের সুবিচার করতে পারেননি। বিশেষ করে সেমিফাইনালে মেসি অনুপ্রাণিত খেলায় প্যারাগুয়েকে ৬-১ গোলে হারানোর পর।
 
স্বাগতিকরা এদিন নিজের মাঠে দর্শক সমর্থনে বলিয়ান হয়ে জয়ের অদম্য বাসনাতেই শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে রুখে দেয়। মেসিকে তো এদিন চেনা চেহারায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। চিলির মধ্যমাঠ ও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা চারবারের ব্যালন ডি অর জয়ী খেলোয়াড়কে এক চিলতে জমিও ফাঁকা পেতে দেয়নি। ফলে গেল বছরের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে পরাস্ত হওয়ার পর আরো একবার জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে হতাশ হতে হলো বার্সেলোনার অসংখ্য সাফল্যের কাণ্ডারি মেসিকে।
 
ম্যাতিয়াস ফার্নান্দেস টাইব্রেকারে প্রথম শটেই চিলিকে এগিয়ে দেয়ার পর আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম শট নিতে এসে সমতা ফেরান মেসি। পরের শট থেকেই বিপত্তিতে পড়ে যায় কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর দল। চিলির আর্টুরো ভিদালের শটে হাত লাগিয়েও ঠেকাতে পারেননি গোলরক্ষক রোমেরো। বিপদ আরো ভারী হয় যখন আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় শটটি মারতে এসে হিগুয়েনের বলটি ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে যায়। নাপোলির এই তারকা স্ট্রাইকারকে ব্যর্থতা যেন কোনভাবেই ছাড়ছে না। বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো এদিনও নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোলের ভাল একটি সুযোগ নষ্ট করেন তিনি।
 
পেনাল্টি মারতে এসেও তা অব্যাহত রাখলে ফিরতি শটে চার্লস অ্যারানগিস স্বাগতিকদের তৃতীয় শটটি সহজেই জালে পাঠিয়ে উজ্জীবিত করেন সতীর্থ গোলরক্ষককে। তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে এভার বানেগার নেয়া আর্জেন্টিনার তৃতীয় শটটি ব্রাভো রুখে দিলে জয়ের দুয়ারে এসে দাঁড়ায় চিলি। কোচ জর্জ স্যামপাওলোর দলের হয়ে এরপর জয়সূচক গোলটি করেন সানচেজ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের এ খেলোয়াড়টির লক্ষ্যভেদের সঙ্গে সঙ্গেই স্বপ্নের শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গোটা চিলি।
 
এর আগে চিলি নিজেদের সমর্থকদের সামনে দারুণ উদ্যম নিয়ে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ফাইট দেয়। শুরু থেকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয় তারা। পক্ষান্তরে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে মেসি, সার্জিও আগুয়েরো ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াদের তারকা থাকলেও চিলির কৌশলী খেলার সাথে এঁটে উঠতে পারেনি। উল্টো দুই প্রান্ত ধরে হাঁকানো স্বাগতিক দলের পাল্টা আক্রমণ রুখতে ব্যতিব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে।
 
খেলা শেষে চিলির স্বপ্ন পূরণের কথা জানালেন তারকা মিডফিল্ডার আর্টুরো ভিদাল। তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন সত্যি হলো। আমরা এটার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি।’ জুভেন্তাসের এই তারকা ফিল্ডার জানালেন, গত বছর বিশ্বকাপের শেষ ষোল থেকে স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে চিলি বিদায় নিলেও নিজেদের মাটিতে এবারের কোপা জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রতীজ্ঞ ছিলেন তারা।
 

জয়সূচক গোল করা সানচেজ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ব্রাজিলেই আমরা বলেছিলাম যে, আমরা কোপা আমেরিকা জিততে যাচ্ছি। আমাদের দলের এই প্রজন্মটা দুর্দান্ত, আমরা এই শিরোপা জেতার যোগ্য।’ —সুপার স্পোর্টস