মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় জন্মের কয়েকদিন পর গত ১৪ জুন সিংহের শাবক এবং জন্মের দু’দিন পর গত ৪ জুলাই জিরাফের বাচ্চা মারা গেছে। আর এ নিয়ে প্রাণী বিশেষজ্ঞরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, বাচ্চা লালনপালনে চিড়িয়াখানার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ আছে।
পশুর ছানা জন্মের পর তা লালনপালনে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ কতটুকু প্রস্তুত জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের ধারণা, বিদেশি প্রাণী আনলেই বেশি দর্শনার্থী আসবে। তাই তারা বিদেশি প্রাণী আনতে আগ্রহী। কিন্তু জাতীয় চিড়িয়াখানায় একটি শালিক পালনে সক্ষমতা আছে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে। চিড়িয়াখানায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী নেই। চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই গবাদিপশু নিয়ে পড়াশোনা করা ডাক্তার। প্রাণিবিদ্যার কোনো কর্মকর্তা নেই বলেও জানান তিনি।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এনায়েত হোসেন বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। দুটো বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে। জন্মের পর তারা কেউই মায়ের দুধ খায়নি। বিশেষ করে জিরাফ বাচ্চাটি এক ফোটা দুধও খায়নি। আমরা ফিডারে করে খাওয়ানোর চেষ্টা করলেও সে খেতে পারেনি।
জানা যায়, গত পহেলা জুলাই রাত আড়াইটায় বাবা আলেকজেন্ডার ও মা ক্লিওপেট্রার ঘরে জন্ম নেয় জিরাফ বাচ্চাটি। জন্মের পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চা জিরাফটির ছয় থেকে আট লিটার দুধ খাওয়ার কথা। কিন্তু বাচ্চাটির মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এক ফোঁটাও দুধ খায়নি। মা জিরাফটি বিভিন্নভাবে বাচ্চাটিকে দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু বাচ্চাটি খায়নি। এ বিষয়টি দেখে বাচ্চা জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ফিডারে করে খাওয়ানো চেষ্টা করে। তাতেও লাভ হয়নি। মূলত: জিরাফ বাচ্চাটি দুধ চুষতেই পারেনি। ফিডারে করে বাচ্চার মুখে দুধ দেয়ার চেষ্টা করা হলে তা পড়ে যায়।
জিরাফ বাচ্চার মরদেহে অন্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। দেখা যায়, বাচ্চার পেটে জন্মের পর পেটে থাকা এক ধরনের ‘ফ্লুইড’ ছাড়া এক ফোঁটাও দুধ দেখা যায়নি। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের ধারণা, বাচ্চাটির স্নায়ুবিক সমস্যার কারণে সে মায়ের দুধ বা ফিডার থেকে দুধ চুষে খেতে পারেনি।
চিড়িয়াখানার একজন কমকর্তা বলেন, মা জিরাফ গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম। ১৫ মাস মা জিরাফের নিয়মিত দেখাশোনা করেছি। আমাদের প্রত্যাশিত সময়ে সুস্থ-সবল বাচ্চা হওয়ায় সবাই খুব খুশি হয়েছিল। কিন্তু শুধু দুধ না খাওয়ার কারণে বাচ্চা মারা যাওয়াটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।
৫ জুন জন্ম নেয়া সিংহের বাচ্চাটিরও ক্ষেত্রে একই সমস্য হয়েছিল। তবে এ বাচ্চাটি প্রথম কয়েকদিন মায়ের দুধ খেয়েছিল। পরে আর দুধ খেতে পারেনি। শেষের দিকে মা সিংহ তার বাচ্চার কাছেই যায়নি। জন্ম থেকেই সিংহের বাচ্চাটির পেছনের পায়ে সমস্যা ছিল। বংশগত কারণেই এই সমস্যা হয়েছে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।
