লড়াইয়ে ফিরতে চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৫, ২৩:৫৭

আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল সোমবার মাশরাফিদের ছুটি ছিল। হোটেল রুমে শুধু একটা মিটিং হয়েছে। কিন্তু মিটিং শেষ হওয়ার আগেই দেখা গেলো, জুবায়ের হোসেন লিখনকে নিয়ে মিরপুরে অনুশীলন করতে ছুটছেন মুশফিকুর রহিম। শুধু মুশফিকই নন, খেলোয়াড়দের সবার মধ্যেই ছুটির দিনেও বাড়তি কিছু করে নিজেকে আরেকটু শানিয়ে নেয়ার তাগিদ দেখা গেছে। এ তাগিদের কারণ একটাই, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়াইয়ে ফিরতে চায় বাংলাদেশ।

 
এ চাওয়া নিয়ে আজ দুপুর একটা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুই দলের পার্থক্য যাই হোক, আজ সেটা ঘুচিয়ে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে চায় মাশরাফির দল।
 
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দুটো খুব কঠিন হবে, এটা জানা কথা ছিলো। তারপরও প্রথম ম্যাচে ৫২ রানের হার, মাত্র ৯৬ রানে অলআউট হওয়াটা মেনে নিতে পারছেন না খেলোয়াড়রা। তাদের মতে, এটা শুধুই নিজেদের ব্যর্থতা। দলের প্রতিনিধি হয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আসা সৌম্য সরকার পরিষ্কার বললেন, দক্ষিণ আফ্রিকা এমন কিছু দুর্দান্ত খেলেছে তা নয়; তারা নিজেদের পরিকল্পনায় সফল হতে পারেননি বলেই এমন হার হজম করতে হয়েছে।
 
স্বভাবতই প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারের জন্য ব্যাটসম্যানদের দিকেই বেশি আঙুল উঠছে। সেটা ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে ব্যাটসম্যান, সবাই স্বীকার করে নিচ্ছেন। আর এখানে ব্যাটসম্যানরা বলছেন, তারা নিজেদের কাজটা ঠিকমতো করতে পারলে আজকের ম্যাচে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারে।
 
নিজেদের পরিকল্পনা থেকে আজো সরতে রাজী নয় বাংলাদেশ। তারা আজো আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চায়। আর সেটা সফল হলে ফলাফলটা পক্ষে আসবে বলে বিশ্বাস খেলোয়াড়দের।
 
সৌম্য যেমন বলছিলেন, ‘আমাদের যে প্ল্যান ছিলো, সে অনুযায়ী আমরা খেলতে পারিনি। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা যাচ্ছিলাম। আমাদের পরিকল্পনা ছিলো প্রথম ছয় ওভারে যদি আমরা রানটা একটু কাভার করে রাখতে পারি—চল্লিশ বা পঞ্চাশ, তাহলে আমরা অনেক এগিয়ে যাবো। নেক্সট ব্যাটসম্যানদের জন্য সহজ হবে তাহলে। সেটা আমরা করতে পারিনি। প্রথমেই আমাদের দুইটা উইকেট পড়ে গেছে। প্রথম একটু ধাক্কা খাওয়ার পর আমরা পিছিয়ে গেছি। আমরা যে প্ল্যানে ছিলাম, সেটাই থাকবে। নেক্সট ম্যাচে সেটা সাকসেস হতে পারলে রেজাল্ট ভালো হবে। আমাদের আজকে এটাই আলোচনা হয়েছে যে, যার যেটা কাজ, সেটায় সফল হতে হবে।’
 
এ পরিকল্পনা সফল করতে একাদশে তেমন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। টিম ম্যানেজমেন্টের একটি সূত্র বলছে, বোলিং ইউনিটে পরিবর্তন খুব জরুরি নয়। তবে উইকেটের দারুণ টার্ন বিবেচনা করে সোহাগ গাজীর বদলে জুবায়ের হোসেন লিখনের খেলার বেশ সম্ভাবনা আছে। ব্যাটিংয়ে আগের একাদশের সবাই থাকবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
 

উইকেটের ব্যাপারে ম্যানেজমেন্টের কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। রাতারাতি না বদলানো গেলেও উইকেট আরেকটু ধীরগতির ও কম টার্নের হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে শেষ বিচারে, সবকিছুই নির্ভর করছে ব্যাটসম্যানদের প্রয়োগের ওপরে।