রাজধানীর আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের তিন নারী সদস্যসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সোমবার দিনগত রাতে র্যাব-২ উত্তরার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় ৯ নারীকে উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে অবস্থিত র্যাব-২ এর সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান—র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।
তুরাগ থানাধীন কামার পাড়ার ৬ নম্বর রোডের একটি বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে তিন নারী পাচারকারী হলেন—শিল্পী আক্তার, সীমা আক্তার মৌসুমী, ও রিনা বেগম (৩০)।
আটককৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের আল আতিফ বিডি ফার্ম থেকে গ্রেফতার করা হয় ওই অফিসের ম্যানেজার আবদুল লতিফ, অফিস সহকারী শহিদুল। এ চক্রের মূল হোতা শাহিন খন্দকার পলাতক ।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ১৯৫টি পাসপোর্ট, নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার ১২৭ টাকা, ১৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকার লেনদেনের ডকুমেন্ট, ২টি মনিটর, ২টি সিপিইউ, ৩টা প্রিন্টার, ১টি ফ্যাঙ্ মেশিন, ১টি ল্যাপটপ, ১টি স্ক্যানার মেশিন, ২টি ক্যাকুলেটর ও ১টি ডিভিডি প্লেয়ার উদ্ধার করা হয়।’
মাহমুদ খান বলেন, ‘চক্রটি সরকার ঘোষিত সৌদি আরবে নারী পাঠানোর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। তারা দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে দালালদের মাধ্যমে নারীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করে থাকে। এ জন্য তারা প্রত্যেক নারীর কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। ইতোমধ্যে তারা ৪ শতাধিক নারীকে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন।’
এ কাজের জন্য তারা খুলনায় দায়িত্ব দিয়েছেন নুরুল ইসলামকে, ঢাকায় আবুল হোসেন, চট্টগ্রামের এনামুল এবং বগুড়ায় কামরুলকে।
চক্রটির সঙ্গে আরো বেশ কয়েকটি চক্রের যোগাযোগ আছে। তাদের খুঁজে বের করার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
