হার কি সেটা যেন ভুলেই গিয়েছিলেন মিরপুরের দর্শকরা। বিশ্বকাপের আগে-পরে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি মিলে এই মাঠেই বাংলাদেশ দলের টানা এগারো জয় দেখেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। ভারতের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষটি হারের মাধ্যমে ছেদ পরে সেই জয় যাত্রায়, এবার যেন শুরু হলো উল্টো যাত্রা!
প্রথম ম্যাচে বোলারদের ভাল শুরুর পরও ম্যাচ হারতে হয়েছিল ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। গতকাল ঠিক ভাবে হলো না কিছুই। টস থেকে শুরু করে ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও টাইগাররা হারলো সফরকারীদের কাছে। ফলে ৩১ রানে হেরে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি হারতে হলো ২-০ ব্যবধানে। ‘হোম অফ ক্রিকেটে’ যেটা টানা তৃতীয় হার।
বোলাররা ছন্দে আছেন, বাড়াতে হবে ব্যাটিং গভীরতা। এই দর্শনকে মাথায় রেখেই হয়তো নামানো হলো বাড়তি একজন ব্যাটসম্যান। সোহাগ গাজীর বদলে অভিষেক হলো রনি তালুকদারের। বিশ্বকাপের পর থেকেই নির্বাচকদের নজরে থাকা এই ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে এলো ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। কিন্তু, সৌম্য সরকার বাদে আর কেউই দৃঢ়তা দেখাতে না পারায় সেটা কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পারলো।
প্রথম ম্যাচের মতোই গতকালও বল হাতে শুরু করেন আরাফাত সানি। তবে আউট হবার বদলে এবার চার হাঁকিয়ে শুরু করেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। কুইন্টিন ডি ককের সাথে তার উদ্বোধনী জুটিতে রান উঠতে থাকে তরতর করে। প্রোটিয়াদের এই আগ্রাসনে কিছুটা সাহায্য করে মুশফিকুর রহীম-তামিম ইকবালদের ঢিলেঢালা ফিল্ডিংও। একাদশ ওভারে যখন সানি ডি কককে তুলে নেন, তখন দলীয় রান পৌঁছে গেছে ৯৫ তে। যে কোন উইকেট মিলে টি-টোয়েন্টিতে এটাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রোটিয়াদের সর্বোচ্চ জুটি।
সঙ্গী বিদায় নিলেও ভিলিয়ার্স খেলছিলেন স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে, ফলে প্রোটিয়াদের বড় সংগ্রহেরই আশঙ্কা করা হচ্ছিল। নাসির হোসেন দূর করেন সেই ভয়। মাশরাফির ভাষায় ‘দলের সেরা অফস্পিনার’ নাসির দ্বাদশ ওভারে পর পর দুই বলে তুলে নেন জেপি ডুমিনি এবং ভিলিয়ার্সকে।
নতুন দুই ব্যাটসম্যান মিলার এবং ফ্যাফ ডু প্লেসিসের পক্ষে আর রানের চাকা আগের মতো দ্রুত ঘোরানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত চার উইকেটে ১৬৯ রান জমা করে তারা। শেষ দুই ওভারে সাকিব এবং মুস্তাফিজ যথাক্রমে ১৯ ও ১৩ রান খরচ না করলে স্কোরটা আরো কম হতে পারতো।
নিজেদের সুবিধার্থে বানানো স্পিন সহায়ক উইকেট প্রোটিয়াদের সাহায্য করছে বেশি। প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ মিলেছিল এই তথ্যের, কাল সেটা বোঝা গেল আরো ভাল ভাবে। উইকেটের কথা ভেবেই পেসার কাগিসো রাবাদার বদলে সুযোগ পান এডি লেই। এই অভিষিক্ত লেগ স্পিনারই সর্বনাশ করেন বাংলাদেশের। টি-টোয়েটি অভিষেকে দেশের পক্ষে সেরা বোলিংয়ের নজির গড়ে তিন ওভারে মাত্র ১৬ রানে নেন তিন উইকেট। তার সঙ্গে যোগ দেন অপর স্পিনার অ্যারন ফ্যানগিসোও। দুজনে নেন মোট ছয়টি উইকেট। টি-টোয়েন্টি এক ম্যাচের এর আগে কখনোই প্রোটিয়া স্পিনাররা পাঁচটির বেশি উইকেট নিতে পারেননি।
স্পিনারদের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হবার আগে অবশ্য বাংলাদেশকে বেশ ভালো একটা শুরুই এনে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার এবং তামিম ইকবাল। ষষ্ঠ ওভারে তামিম ফিরে যাবার আগে এই জুটি থেকে আসে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৬ রান। যদিও সেখানে তামিমের অবদান ছিল মাত্র ১৩। এরপরও সৌম্য যতক্ষণ ছিলেন ততক্ষণ খুবই সম্ভব মনে হচ্ছিল জয়টা। কিন্তু ২১ বলে ৩৭ রান করা এই বাঁহাতি লেইর প্রথম আন্তর্জাতিক শিকারে পরিণত হলে ধাক্কা খায় জয়ের স্বপ্ন। পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালে বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয় ম্যাচের মতো ২০ ওভার ব্যাট করতে ব্যর্থ হয়। ১৯.২ ওভারে ইনিংস থামে ১৩৮ রানে।
মিরপুরেই ১০ জুলাই থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। যেখানে মাশরাফিদের সামনে থাকবে এই হারের ধারা থেকে বেরিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ।
