এই দলই টি-টোয়েন্টি ভালো করবে: মাশরাফি বিন মুর্তজা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৫, ০৩:০৬

সিরিজ শুরুর আগেই বারবার মাশরাফি বলেছেন, এখনই তারা টি-টোয়েন্টি নিয়ে সিরিয়াস নন। গতকাল সিরিজ শেষে বললেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে তারা নিবিড় কাজ শুরু করবেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে। আর সেখানে কাজে লাগবে এই সিরিজ থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলো। সেগুলো কাজে লাগাতে পারলে এই দলটা ভালো একটা টি-টোয়েন্টি দলে পরিণত হবে বলে তার বিশ্বাস

 
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিটা কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?
 
ওরা ব্যাটিং শুরু করেছিল খুব ভালো। ১০ ওভারে ৯০ রান হয়ে যাওয়ার পরও আমরা ভালো ক্যামব্যাক করেছি। ব্যাটিংয়ের কথা বললে আমরা যেভাবে শুরু চেয়েছি ঠিক সেভাবেই শুরু হয়েছে। কিন্তু আবারও আমরা জুটি করতে ব্যর্থ হয়েছি। সব মিলিয়ে আমি ব্যাটসম্যানরা শট নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। এটাই মনে হয় আমার।
 
ঠিক কী ধরনের দ্বিধা ছিল বলে মনে হয়?
 
আমি শট নির্বাচনের কথাই বলছি। একটা-দুটো জুটি করে খেলাটা শেষ ৫ ওভারে নিয়ে যাওয়া দরকার ছিল। সেখানে ৬০ রান দরকাল হলেও একটা অপশন থাকত। সেখানে উইকেট পড়ে যাওয়াতে এই সমস্যা হয়েছে।
 
দুইটা ম্যাচ বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঠিক কোথায় কোথায় এগিয়ে রাখবেন?
 
ফিল্ডিং। ওরা শেষ ম্যাচেও অসাধারণ ফিল্ডিং করেছে। আমরা প্রথম ম্যাচে খারাপ করিনি। আজকের ম্যাচে কিছু ২ রান দিয়ে দিয়েছি, কিছু ওভার থ্রো দিয়েছি। ফিল্ডিংটা বলব না অনেক সিরিয়াস। তবে হয় কি ওরা যে লেভেলে খেলবে ওদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলতে হবে। তা হলেই জেতার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
 
মুশফিক টানা বেশ কিছুদিন রান পাচ্ছেন না। এটা কি দুশ্চিন্তার?
 
দুচিন্তার কিছু নেই। ওর যতটুকু চেষ্টা করার ততটুকু ও করছে। অবশ্যই আমরা চাই মুশফিক তার সেরা ফর্ম নিয়েই দলে থাকুক। কিন্তু এটা সব সময় হবে না। আমি আশা করি মুশফিক খুব শক্তভাবে ফর্মে ফিরবে। আর ও যেদিন ক্যামব্যাক করবে সেদিন আমরা ম্যাচ জিতব আশা করি।
 
এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ কম খেলে বলেই কি এমন হচ্ছে?
 
আসলে কী হয়, টি-টোয়েন্টির জন্যই শুধু অনুশীলন করাও সম্ভব নয়; যদি সামনে শুধুই টি-টোয়েন্টি না থাকে। একজন প্রফেশনাল খেলোয়াড় হিসেবে সব জায়গায় পারফরম্যান্স করতে হবে। আমি এসব অজুহাত দিতে চাই না। তারপরও প্রত্যেকটা ম্যাচই নতুন মনে হয়। কারণ হচ্ছে টি-টোয়েন্টি আমরা প্রচুর খেলার সুযোগ পাই না। অন্যান্য দলের খেলোয়াড়দের দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় খেলার সুযোগ থাকে। আমরা সেই সুযোগ পাই না, সাকিব ছাড়া। তারপরও আমি মনে করি আমাদের ওভার কাম করতে হবে। এই দুটি ম্যাচ খেলে আমাদের শিক্ষা হলো আমরা টোয়েন্টি২০-তে কোথায় আছি। সামনে বিশ্বকাপ আছে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট ম্যাচের পর আমরা এটা নিয়ে ওয়ার্কআউট করব। হয়তো বা আমরা একটা ভালো জায়গায় আসতে পারব।
 
টি-টোয়েন্টিতে কি অনেক পিছিয়ে আছি আমরা?
 
আমি এখনো মনে করি না যে, আমরা অনেক দূরে আছি। আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে কোনো একটা দিকে তো ভালো খেলছি। কিন্তু ওভারঅল ভালো না খেলার কারণে যেটা দরকার হয় আমরা সেটা করতে পারিনি। এটা করার জন্য আমাদের কিছু সময় লাগবে। যেটা হলে আমার বিশ্বাস এই দলটাও ভাল টি-টোয়েন্টি খেলতে পারে।
 
ছয়-সাত নম্বরে পাওয়ার হিটার থাকাটা কতটা জরুরি?
 
খুবই। এটাই আমাদের ভাবতে হবে। এই ফরম্যাটে ছয়-সাত বা আট নম্বরে কে বেশি উপযুক্ত তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। হাতে আরো সময় আছে। আমরা ওই জায়গাটাতে খারাপ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে আর ওই জায়গায় সমস্যা না হয়, আমাদের সে বিষয়ে কাজ করতে হবে।
 
রনি তালুকদার আট নম্বরে, অথচ সে ওপেনিং করে...
 
ওপেনিংয়ে তো জায়গা নেই। সেখানে তামিম ও সৌম্য খুব ভালো খেলছে। রনি হয়তো ওয়ান ডাউনে খেলবে। আমাদের সে রকমই পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ছয় ওভার পর্যন্ত ওপেনিং জুটি টিকে যাওয়ায় যারা রান করতে পারবে দ্রুত, যেমন সাকিব বা মুশফিক; আমরা তাদেরকেই সুযোগ দিয়েছি।
 
ওদের লেগস্পিনার ভালো করল। জুবায়েরকে কী খেলানো যেত?
 
ওকে নিয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনা আছে। ও দলে আছে। ওকে হয়তো সামনে যে কোনো সময় সুযোগ দেয়া হবে। সে আমাদের চিন্তা-ভাবনায় আছে।
 
  স্কোরকার্ড
 
বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা
 
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
 
দক্ষিণ আফ্রিকা                           রান    বল    চার  ছয়
 
ডি কক ক সাব্বির  ব সানি              ৪৪    ৩১    ৪    ২
 
ডি ভিলিয়ার্স ক মুশফিক ব নাসির       ৪০    ৩৪   ৬    ০
 
ডুমিনি ক সাকিব ব নাসির               ৬      ৪     ১    ০
 
ডু প্লেসিস ক মুশফিক ব মুস্তাফিজ      ১৬    ১৭    ১    ০
 
মিলার অপরাজিত                        ৩০    ২৮    ২    ১
 
রুসো অপরাজিত                         ১৯    ৬     ১    ২
 
অতিরিক্ত (বাই ৪, লেগ বাই ১, ও: ৯)        ১৪
 
মোট (চার উইকেটে, ২০ ওভার)        ১৬৯
 
উইকেট পতন:
 
১-৯৫(ডি কক), ২-১০২ (ডুমিনি), ৩-১০২ (ডি ভিলিয়ার্স), ৪-১৩৬ (ডু প্লেসিস)।
 
বোলিং:
 
সানি: ৪-০-৩১-১, নাসির: ৪-০-২৬-২, মুস্তাফিজ: ৪-০-৩৪-১, সাকিব: ৪-০-৩৭-০, মাশরাফি: ৩-০-২৫-০ ও সৌম্য: ১-০-১১-০।
 
বাংলাদেশ ব্যাটিং
 
তামিম ক ভিজে ব পারনেল             ১৩    ১৮    ১    ০
 
সৌম্য স্ট্যা. ডি কক ব লেই             ৩৭    ২১    ৬    ১
 
সাকিব ক রুসো ব ফ্যানগিসো          ৮      ১৪    ০    ০
 
মুশফিক ক রুসো ব লেই                ১৯    ১৬   ১    ১
 
সাব্বির ক মিলার ব লেই                 ১      ৩     ০    ০
 
নাসির ক রুসো ব ফ্যানগিসো          ০      ২      ০    ০
 
রনি ব অ্যাবট                             ২১    ২২    ০    ০
 
লিটন ক ভিজে ব ফ্যানগিসো           ১০    ৭      ১    ০
 
মাশরাফি ব অ্যাবট                       ১৭    ৮     ০    ২
 
সানি অপরাজিত                          ৫      ৫     ০    ০
 
মুস্তাফিজ ব অ্যাবট                       ০      ১      ০    ০
 
অতিরিক্ত (ও ৬, নো বল ১)            ৭
 
মোট (অল আউট, ১৯.২ ওভার)        ১৩৮
 
উইকেট পতন:
 
১-৪৬(তামিম), ২-৫৫(সৌম্য), ৩-৬৯(সাকিব), ৪-৮২(সাব্বির), ৫-৮২(মুশফিক), ৬-৮২(নাসির), ৭-১০৩(লিটন), ৮-১২৫(মাশরাফি), ৯-১৩৭(রনি) ও ১০-১৩৮(মুস্তাফিজ)।
 
বোলিং:
অ্যাবট: ৩.২-০-২০-৩, ডুমিনি: ৪-০-২৬-০, পারনেল: ৩-০-২৯-১, ভিজে: ২-০-১৭-০, লেই: ৩-০-১৬-৩, ফ্যানগিসো: ৪-০-৩০-৩।
 

টস: দক্ষিণ আফ্রিকা
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩১ রানে জয়ী।
সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ ব্যবধানে জয়ী।