মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খানের স্বপ্ন পূরণ হলো না। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএ হান্নানের গলাধাক্কার অপমান সইতে না পেরে তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। স্বাধীন বাংলায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এ ধরনের অপমান করায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেন, মন্ত্রণালয়ের সচিবের গলাধাক্কার অপমান সইতে না পেরে একজন মুক্তিযোদ্ধা চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন—এমন অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মিজানুর রহমানকে প্রধান করে এক সদস্যের কমিটি হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে ঐ চিরকুটের ফটোকপি, তার বাড়ি পরিদর্শন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক তার কাগজপত্র এবং মন্ত্রণালয়ে আদৌ এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি না তা তদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শাহবাগ থানার এসআই মামুন ফারাজী বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে তোপখানার হোটেল কর্ণফুলীর ২০৪ নম্বর কক্ষ থেকে আইয়ুব খানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হোটেল কক্ষের টেবিলে চার পৃষ্ঠার একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়। চিঠিতে মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খানের অভিমানের কথা লেখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিট ঘোষণা দেয়ার আবেদন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএ হান্নানের কাছে মাছ ও শুঁটকি উপঢৌকন পাঠিয়েছেন। সচিবের কাছে টাকাও দিয়েছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিট ঘোষণা না দেয়ায় তিনি ঢাকায় সচিবের বাসায় গিয়ে দেখা করেন। পরে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দেখা করলে সেখান থেকে তাকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। এই অপমান একজন মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। তাই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন। আইয়ুব খানের মামাতো ভাই আমীর হোসেন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মামুন ফারাজী বলেন, একজন কর্মকর্তা তাকে অপমান করেছিলেন—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঐ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করবে।
মুক্তিযোদ্ধার এভাবে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সচিব এমএ হান্নান। গতকাল মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম (দক্ষিণ) ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে যে বিষয়টি বলা হয়েছে তাতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ কাজে সচিবের বাসায় যাওয়া কোনোমতেই বিশ্বাসযোগ্য ঘটনা নয়। তার সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত পরিচয়ও নেই।
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। লাশ নেয়া হয় আইয়ুব খানের চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার নলুয়া দক্ষিণ মরফলা গ্রামে। আইয়ুব খানের পুত্র আরিফ খান বলেন, তার পিতা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। এ সম্পর্কিত সকল কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। বাবাকে আত্মহত্যায় কারা প্ররোচিত করেছে তা বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে গ্রামের একটি মাঠে নামাজে জানাজা শেষে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাতকানিয়া থানা পুলিশের রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের পর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
