বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রলীগ সভাপতির মোটর সাইকেল পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগ ও ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মুর্শেদুজ্জামান খান প্রধান ফটকের কাছাকাছি তার এক বন্ধুর বাসায় ইফতারের দাওয়াতে যান। এসময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী কয়েকজন ওই বাসায় গিয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ উপস্থিত কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করে। পরে তারা বাসার নিচে রাখা মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্যাম্পাসে দেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগ। রাত ১০ টার দিকে পার্শ্ববর্তী দিঘারকান্দা এলাকার প্রায় ৫০-৬০ জন লোক দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে জব্বারের মোড় এলাকায় বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সাথে যোগ দেয়। পরে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে গুলি বর্ষণ করতে করতে একটি মিছিল প্রধান ফটকের দিকে অগ্রসর হয়। একসময় তারা প্রধান ফটক অতিক্রম করে কেওয়াটখালি এলাকায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির বাড়িতে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়িতে ভাংচুর করে। এসময় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির অনুসারীরা এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের কর্মীদের পাল্টা দাওয়া দেয়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, ছোঁড়া হয় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি। সংঘর্ষে গুরুতর আহত বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহসভাপতি নূরে আলম খান বাপ্পি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার, কর্মী অলিউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বুধবার সকালে সাইফুল ইসলাম ও মাহির শাহরিয়ারের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাদের ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিত্সকরা।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পরপরই প্রভোস্ট কাউন্সিলের জরুরি সভা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। বুধবার সকাল ৮ টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে মাইকিং করে প্রশাসন। হঠাত্ করে হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। টিকেটের জন্য শিক্ষার্থীদের রেল স্টেশন ও বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম জাকির হোসেন জানান, ঈদুল আজহার পর ২৬ তারিখে যথারীতি ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে।
